• ন্যাটো-আক্রমণে পাকিস্তানে ২৪ সেনা হতঃ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন-বহিষ্কারের নির্দেশ
    pakistan_soldiers_killed_by_nato_1.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৭ নভেম্বর ২০১১, রোববারঃ  পাক-আফগান সীমান্তে গতকাল শনিবার ন্যাটোর বিমান-আক্রমণে পাকিস্তানী দুটি চেকপৌস্টে নিহত হয়েছেন ২৪ পাক-সেনা আর আহত হয়েছে অন্ততঃ ১৩ জন। ঘটনাটি ঘটেছে বালোচিস্তানের মোহমান্দ এলাকায়। গত ৩ বছরে এ-নিয়ে মোট ৭২ পাকিস্তানী সেনা প্রাণ হারালো ন্যাটোর হাতে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত তথাকথিত 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' বা 'ওয়ার অন টেররে' পশ্চিমের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী পাকিস্তানের এ-পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ সামরিক-সদস্য নিহত হয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র-মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ-ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে পূর্ণ তদন্তের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। ন্যাটোর প্রধান ফগ রাসমুশেনও এটিকে একটি দুর্ঘটনা বর্ণনা করে প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ ও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। দেশব্যাপী গণ-অসন্তোষের মুখে পাকিস্তানের সেনা-কর্তৃপক্ষ এ-ধরনের দুঃখ-প্রকাশকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেছেন, 'এটি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি হামলা'। গত বছরও এ-ধরনের একটি আক্রমণে ২জন পাক-সেনা নিহত হয়েছিলেন।

    শনিবার ভোররাতে চেকপৌস্ট দুটিতে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার হামলা চালায়। ন্যাটো এটিকে অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা বললেও, পাকিস্তান বলেছে ন্যাটো ভালোভাবেই জানতো যে, সেখানে চেকপৌস্ট রয়েছে। তবে ন্যাটোর বরাত দিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে যে, পাকিস্তানী উস্‌কানির জবাবে ন্যাটো পাল্‌টা আক্রমণ করেছিলো। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার গণসংযোগের প্রধান মেজর জেনারেল আত্‌হার আব্বাস এ-ধরনের দাবী অস্বীকার করে বলেছেন, 'বিনা উস্কানিতে সংঘটিত এ-ধরনের হামলার ন্যায্যতা খুঁজতে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক'।

    এ-হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক, কুটনৈতিক ও সামরিক-সহ সকল সম্পর্ক পূনর্বিবেচনা করার ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তান তার দেশের ভিতর দিয়ে যাওয়া ন্যাটোর সকল রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে সামসি বিমানঘাঁটি ত্যাগ করতে বলেছে। উল্লেখ্য, এ-ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মনুষ্য-বিহীন 'ড্রৌন' উড্ডয়ন করানো হয়।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন করে ঘটা এ-ঘটনা ক্রমাবনতিশীল পাক-মার্কিন সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়াকে কেবল বাধাগ্রস্তই করবে না, বরং নতুন মোড় নিতে বাধ্য করতে পারে। ইসলামাবাদ ইতোমধ্যেই নতুন শক্তিশালী মিত্রের সন্ধানে চীনের সাথে সম্পর্কোন্নয়ে মন দিয়েছে। গত মে মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হওয়া 'চায়না-ইউএস স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগে' চীনের পররাষ্ট্র-মন্ত্রী বলেছিলেন, 'পাকিস্তানের উপর আক্রমণকে চীন নিজের উপর আক্রমণ বলে বিবেচনা করবে'। অনেকে মনে করছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ঘটমান সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর সাপেক্ষেই দেখা উচিত পাকিস্তানের উপরে সংঘটিত ন্যাটোর এ-হামলা।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন