সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- ন্যাশনাল বুলিং হেল্পলাইন বন্ধঃ অর্থায়নের অভাব নিরিখে প্রধানকর্ত্রীর পদত্যাগ


ইউকেবেঙ্গলি, লন্ডন ৭ই জানুয়ারী ২০১১ - কোনো প্রতিষ্ঠানে সবল দূর্বলকে বাক্যে বা ভঙ্গিতে ভীতি প্রদর্শন করলে দূর্বলের সাহায্য চাওয়ার জন্য ন্যাশনাল বুলিং হেল্পলাইন বলে যে-প্রতিষ্ঠানটি নানা-ভাবে সহায়তা দিতো, সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অর্থায়নের অভাব এবং এর প্রতিষ্ঠাত্রী ও প্রধানকর্ত্রী ক্রিস্টিন প্র্যাটের পদত্যাগের কারণে এ-হেল্পলাইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।উল্লেখ্য, গত বছর ফেব্রুয়ারীতে প্রতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বুলিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিতর্কের আবহে সাময়িক কালের জন্য এ-হেল্পলাইনটি স্থগিত রাখা হয়। সে-সময় মিসেস প্র্যাট দাবী করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী কার্য্যালয় ১০ নং ডাউনিং স্ট্রীটের একাধিক ব্যক্তি বুলিংয়ের শিকার হয়ে তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ-অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দেয়া হয়। বস্তুতঃ তার আগে অভজার্ভার পত্রিকার রাজনৈতিক ভাষ্যকার এ্যান্ড্রু রন্সলীর লিখিত একটি বইকে উদ্ধৃত করে অভিযোগ উত্থাপিত হয় যে, প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ক্রোধান্বিত দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে তার কর্মীমণ্ডলীর মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছেন। ডাউনিং স্ট্রীট এ-সমস্ত দাবীকে দূরভিসন্ধিমূলক অভিযোগ বলে খারিজ করে দেয়।
পরবর্তীতে মিসেস প্র্যাট জোরের সাথে বলেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে অভিযুক্ত করছেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে গোপনীয়তা রক্ষায় মিসেস প্র্যাট বর্থ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করে ন্যাশন্যাল বুলিং হেল্পলাইনের চার পৃষ্ঠপোষক পদত্যাগ করেন। বস্তুতঃ তখন থেকেই এ-দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি সঙ্কটে নিপতিত হয়।
ন্যাশনাল বুলিং হেল্পলাইনের একজন মুখপাত্র সংবাদ-মাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার মিসেস প্র্যাট সংস্থাটির ট্রাস্টীদেরকে তার পদত্যাগ সম্পর্কে অবহিত করেন। ফলে, একই দিন সন্ধ্যায় ট্রাস্টীরা জরুরী বৈঠকে বসে সংস্থাটি বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
২০১০ সালে ন্যাশনাল বুলিং হেল্পলাইনে তাৎপর্যপূর্ণ হারে কলের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে মুখপাত্রটি বলেন, ‘এর ফলে আরও অর্থায়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।’ তিনি জানান, ‘বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কাজের চাপ ও অর্থায়ন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা মিসেস প্র্যাটের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে’।
সংবাদ-মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ট্রাস্টীরা বলেন, ‘এই গেলো বছর আমাদের হেল্পলাইনে করা কলের সংখ্যা ত্রিগুণ হয়েছে এবং চাহিদা পূরণের জন্য আমাদেরকে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী ও রিসৌর্স নিতে হয়েছে।’ এই গেলো বছর আমাদের হেল্পলাইনে করা কলের সংখ্যা ত্রিগুণ হয়েছে এবং চাহিদা পূরণের জন্য আমাদেরকে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী ও রিসৌর্স নিতে হয়েছে। এ-ঘটনা সন্দেহাতীত-ভাবে নিঃখরচার পাওয়া একটি এন্টি-বুলিং হেল্পলাইনের অতীব প্রয়োজন রয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের এ-চ্যারিটী বন্ধ করার বিষয়টি জনসাধারণের জন্য একটি বিরাট ক্ষতি।’ বিবৃতিতে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা-প্রতিষ্ঠাত্রী, ট্রাস্টী, স্বেচ্ছাসেবী, পৃষ্ঠপোষক-সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।