• পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে তিন দিন ধরে মার্কিন ড্রৌন হামলাঃ মৃতের সংখ্যা ২৮
    US-drone.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৪ জুন ২০১২, সোমবারঃ  গত সপ্তাহান্ত থেকে শুরু করে আজ সোমবার পর্যন্ত তিন দিনে পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন ড্রৌন হামলায় মোট ২৮ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি যে তালিবান ও আল-কায়েদা যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে এই হামলা,কিন্তু পাকিস্তান একে অবৈধ ও তার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে।

    সুদূর আমেরিকায় থেকে দূর-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মাধ্যমে মনুষ্য-বিহীন বোমাবাহী বিমান উড়িয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আঘাত করার কৌশল - ড্রৌন নামে পরিচিত - অবলম্বন করে পাকিস্তানের ভূমিতে মার্কিন আক্রমণের সোমবারের ঘটনায় ১৭ জন, রোববারের ১০ জন এবং শনিবার ১ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে দৈনিক গার্ডিয়ান।

    স্থানীয় এক গোষ্ঠীপতি বক্তব্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, বেশির ভাগ সময়েই আকাশে ড্রৌন ওড়ার শব্দের কারণে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দিন গুজরান করছেন জনগণ। তবে এ-হামলার কারণে সাংঘাতিক ভাবে ক্ষেপে উঠেছে জঙ্গীরা।

    গত বছরের নভেম্বর মাসে মার্কিন ড্রৌন হামলায় আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের ২৪ সেনা-সদস্য নিহত হবার পর পাকিস্তান তার করাচি বন্দর থেকে স্থলপথে আফগানিস্তানে যাওয়া-আসার সুবিধা ন্যাটো বাহিনীর জন্য বাতিল করে শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে, ২৪ সেনা হত্যার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সড়ক সুবিধার জন্য উচ্চ মূল্য দিতে হবে।

    গত মাসে মার্কিন দেশের শিকাগৌতে ন্যাটো সম্মেলনে পাকিস্তানকে তার শর্তের বাইরে সম্মত করানো যায়নি বলেই দেশটির উপর মার্কিন ড্রৌন হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কূটনৈতিক ও যুদ্ধ বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

    উল্লেখ্য, গত বছর পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ অন্ধকারের রেখে রাজধানীর অদূরে অ্যাবোটাবাদে কথিত ওসামা বিন-লাদেনের বাড়ীতে মার্কিন কমাণ্ডো বাহিনীর হামলা ও বিন লাদেনকে সপুত্রক হত্যা ও লাশ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের সামরিক গর্ব যেভাবে ভূলুন্ঠিত হয়েছে, তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দেশটির সম্পর্কে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকতায় প্রত্যাবর্তন করতে পারেনি।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন