• পাকিস্তানে সরকার উৎখাতে ইমরান খানের নেতৃত্বে সহিংস বিক্ষোভঃ সেনা-হতক্ষেপের আশঙ্কা
    pakistan_imran_khan_speaks_in_protest_rally.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, সোমবারঃ পাকিস্তানে গত বছর জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ করছে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি। রাজধানী ইসলামাবাদে ১৪ অগাস্ট শুরু হওয়া এ-বিক্ষোভ গত ৭২ ঘণ্টায় সহিংস রূপ নিয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে এ-পর্যন্ত অন্ততঃ ৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন।

    ইমরান খানের সাথে আন্দোলনে রয়েছে ক্যানাডা-প্রবাসী ধর্মবেত্তা তাহিরুল কাদ্‌রীর দল পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক। দেশটির স্বাধীনতা দিবসে 'আজাদী মার্চ' নামে তেহরিক-ই-ইনসাফ ও 'ইনকিলাব মার্চ' নামে আওয়ামী তেহরিকের লংমার্চ শুরু হয় যা রাজধানী ইসলামাবাদে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের পদত্যাগ দাবী করতে থাকে।

    লাগাতার অবস্থানের প্রথম দুই সপ্তায় বিক্ষোভরত ইমরান-সমর্থক ও কাদ্‌রী-সমর্থকদের সাথে নিরাপত্তারক্ষীদের মৃদু সংঘর্ষ চললেও গত তিন দিনে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিক্ষোভকারীদের উপর 'মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের' বিরুদ্ধে সেনা প্রধান রাহীল শরীফ স্বয়ং সরকারের সমালোচনা করেছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, "কালক্ষেপণ ও বল প্রয়োগ না করে রাজনৈতিকভাবে [এ-সমস্যার] সমাধান করা উচিত।"

    নওয়াজ শরীফকে ১৯৯৯ সালে ক্ষমতা থেকে বিতারণ করে তৎকালীন সেনাপ্রধান পারভেজ মুশাররফ। তারপর দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ ও দেশ থেকে বিতাড়িত থাকার পর গত বছর নির্বাচনে বিজয়ী হন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের সম্ভবনা কমানো ও মুশাররফের বিচারে মনোযোগী হন। ঐতিহ্যিকভাবে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে সেনাবাহিনী প্রচ্ছন্ন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। কিন্তু শরীফ তা উপেক্ষা করে প্রতিবেশী ভারতের নয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখার কথা নয় সেনাবাহিনীর। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মহলে গুজব চলছে যে সেনাবাহিনী গোপনে সমর্থন করছে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন