• পাকিস্তানে সাংবাদিক হত্যায় সরকারের অনুমোদন ছিলোঃ বললেন মার্কিন জেনারেল মুলেন
    Syed-Saleem-Shahza.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ৯ জুলাই ২০১১, শনিবারঃ  পাক-মার্কিন সম্পর্ক অবনতির আরও এক ধাপ নামিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘জয়েন্ট চীফস অফ স্টাফ’-এর চেয়ারম্যান এ্যাডমিরাল মাইক মুলেন গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, মে মাসে রাজধানী ইসলামাবাদে সাংবাদিক সালিম শাহজাকে হত্যা করায় সরকারের অনুমোদন ছিলো।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানী নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে গত ২২ মে যে জঙ্গীবাদী আক্রমণ সংঘটিত হয়, সালিম শাহজাদ সে-সম্পর্কে একটি প্রতিবেদেন লিখেছিলেন। প্রতিবেদনটিতে তিনি দাবী করেছিলেন,  নৌবাহিনীর বিভিন্ন পদে অনুপ্রেবেশ করে থাকা আল-কায়েদা সদস্যদের উপর কর্তৃপক্ষ আঘাত হানার পর প্রতিশোধ হিসেবে নৌদপ্তর আক্রমণ করা হয়।

    হংকং-ভিত্তিক সংবাদ-সাপ্তাহিকী এশিয়া নিউজের জন্য কাজ-করা সাংবাদিক সালিম শাহজার প্রতিবেদনটি ২৭ মে প্রকাশিত হবার দুদিন পরই, অর্থাৎ ২৯ মে থেকে‌ তিনি নিখোঁজ হন এবং পর দিন, অর্থাৎ ৩০ মে, রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ৬০ মেইল দূরে এক খালের জলে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। ডাক্তারী পরীক্ষায় সালিম শাহজার মৃতদেহে নির্যাতনের চিহ্ন সনাক্ত করা হয়।

    কথিত বিন লাদেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে, পাকিস্তানের মাটিতে বিনা অনুমতিতে মার্কিন অভিযান পরিচালিত হবার পর, পাক-মার্কিন সম্পর্কের যে তিক্ততার আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এ্যাডমিরাল মুলেনের মন্তব্য স্পষ্টতঃ সুদূর প্রসারী।

    শাহাজা হত্যাকাণ্ডের পিছনে পাকিস্তান সরকারের সংশ্লিষ্টতা আছে উল্লেখ করে এ্যাডমিরাল মুলেন বলেন, ‘এটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। এ-বিষয়ে সরকার জ্ঞাত বলে যে রিপৌর্ট আছে, তাকে ভ্রান্ত বলার মতো আমি কিছুই দেখিনি।’

    সাংবাদিক হত্যা-পরিকল্পনার সাথে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারী কিংবা সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানি জড়িত কি-না জানতে চেয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি এ্যাডমিরাল মুলেনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, হত্যাকাণ্ডটির তদন্তের জন্য পাকিস্তানে ইতোমধ্যে একটি কমিশন নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার আমেরিকান বন্ধুদের কাছে যে প্রামাণাদিই থাকুক, তা ঐ তদন্ত কমিশনের সাথে শেয়ার করা উচিত’।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে এক সাক্ষাতকার কালে রাষ্ট্রদূত হাক্কানি বলেন, ‘মানবাধিকার বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বিশ্বের যেকোনা কারও মতোই আগ্রহী আমরা বিষয়টির তলায় যেতে অগ্রাহী’।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন