• পাক-মার্কিন সম্পর্কের ক্রমোবনতিঃ আর্থিক অনুদান বন্ধ কিন্তু ড্রৌনাক্রমণ অব্যাহত
    Pak-US-relation-detoriarates.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১২ জুলাই ২০১১, মঙ্গলবারঃ  পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার বিপরীতে চলার কারণে, গত রোববার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চীফ অফ স্টাফ উইলিয়াম ডেলী ৮০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক অনুদান স্থগিত ঘোষণা করেন এবং পরদিনই ড্রৌনাক্রমণ শুরু করে মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে পাকিস্তানের মাটিতে তিন-তিন বার আঘাত হেনে কমপক্ষে ৩৮ ব্যক্তিকে হত্যা হয়।

    গত রোববারে টেলিভিশিত এক সাক্ষাতকারে ডেলী বলেন, পাকিস্তান ‘এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার কারণে আমারা অনুদানের খানিকটা অংশ বন্ধ রেখেছি।’

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সামরিক খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় ১.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়িয়ে ২০১০-২০১১ বাজেটে ৬.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ধার্য্য করে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ডের কাছে জমা দেয়া হয়েছিলো। ধারণা করা হয়, মার্কিন অনুদানের উপর নির্ভশীল পাকিস্তান রাষ্ট্রকে বড়ো ধরণের সামরিক ও আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলা করতে হবে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অনুদান বন্ধ করে পাকিস্তানের উপর আর্থিক আঘাত হানার পাশাপাশি সোমবার বিকেল থেকে শুরু করে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে তিনটি ড্রৌন আক্রমণে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। এ-ঘটনা-সমূহ পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মনোভাব প্রতিফলিত করছে।

    পাকিস্তানের ভূমিতে মার্কিন ড্রৌনের সর্বশেষতম আক্রমণটি হয় মাঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের দ্রেমালা গ্রামের একটি বাড়ীতে। পাকিস্তানী গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্বৃত করে বিবিসি জানায়, এতে ৮ থেকে ১৩ ব্যক্তি প্রাণ হারায়।

    তার আগে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের শাওয়াল এলাকায় একটি বাড়ীত ড্রৌন হামলায় মৃত্যু ঘটে সন্দিগ্ধ ১০ চরমপন্থীর।

    সোমবার রাতে আফগান সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর ওয়াজিরিস্তানেরই গোরবাক গ্রামের একটি বাড়ীত ২০ জনকে হত্যা করা হয় ড্রৌন ক্ষেপণাস্ত্রে।

    পাকিস্তানের ভিতরে চরমপন্থীদের দমনে মার্কিন ড্রৌন হামলার ব্যাপারে এক সময় সরকারী সমর্থন থাকলেও অনেক পাকিস্তানীই বিষয়টিকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করতেন। কিন্তু কথিত বিন লাদেন হত্যা-চেষ্টায় পাকিস্তানের গভীরে অনুমোদন-হীন কমান্ডো হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিতে দেশটি উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে।

    লাদেন-কাণ্ডের পর পাকিস্তান থেকে ৯০ জন মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়, যা স্পষ্টতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

    আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ওবামা যে হুমকীর উৎস হিসেবে আফগানিস্তানের পরিবর্তে ‘অন্যত্র’ বলে যে পাকিস্তানকেই বুঝিয়েছিলেন, তা ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    ইউকেবেঙ্গলির বিশ্লেষণ অনুসারে, পারমাণবিক অস্ত্রধর পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন মনোভাবের পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়াতে একটি দীর্ঘকালীন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে শক্তিশালী করে তুলছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন