• পাবলিক সেক্টরে অবসরের বয়স ও পেনেশনে অর্থ জমা বৃদ্ধি করতে হবেঃ ট্রেজারীর ঘোষণা
    Danny-Alexander-will-anno-007.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১৭ জুন ২০১১, শুক্রবারঃ  পেনশন নীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাবলিক সেক্টরের কর্মচারীদের যদি প্রাইভেট সেক্টেরের তুলনায় ভালো পেনশন পেতে হয়, তাহলে তাদের কর্ম-জীবনকে দীর্ঘতর করতে হবে এবং পেনশন তহবিলে অবাদান বৃদ্ধি করতে হবে। ট্রেইড ইউনিয়নের নেতারা সরকারে এহেন ঘোষণাকে উত্তেজনা ও হুমকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন।

    শুক্রবার থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চে এক বক্তৃতায় ট্রেজারীর চীফ সেক্রেট্যারী এ্যান্ডী আলেক্সজান্ডার নতুন পেনশন নীতির কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেন।

    তিনি জানান, অবসর গ্রহণের বয়স এখন থেকে প্রাইভেট সেক্টরের মতো পাবলিক সেক্টেরের কর্মচারীদের বেলায়ও ৬৬ বছরে উন্নীত হবে - যদিও পুলিস ও ফায়ার-ফাইটারদের বেলায় তা নিম্ন থেকে উচ্চ-মর্যাদা অনুসারে ৬০ থেক ৬৫।

    নতুন নিয়মানুসারে, শেষ-বেতন ভিত্তিক পেনশন হিসাবের আগেকার উদার নীতি পরিত্যাগ করা হবে এবং সেখানে গড়-বেতনকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

    অধিক বিতর্কিত নীতি হচ্ছে, কর্মচারীদের বেতনের ‘প্যাকেট’ থেকে অধিক হারে পেনশনের জন্য ‘কন্ট্রিবিউশন’ বা মাসিক অবদান কেটে নেয়া হবে। এর ফলে, মাসিক বেতনের বাড়ীতে-নেয়া অর্থের পরিমাণ কমে আসবে।

    'রেডিও ফৌর'কে শুক্রবারে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আলেক্সজান্ডার বলেন, ‘এ-দেশে মানুষ দীর্ঘতর কাল বাঁচে - ১৯৭০ সাল থেকে আমরা গড়আয়ু বৃদ্ধি লক্ষ্য করছি এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে’। তিনি বলেন, ‘এজন্যেই আমরা রাষ্ট্রীয় পেনশনের বয়স বৃদ্ধি করছি - এটি ২০২০ থেকে ৬৬ বছরে উন্নী হবে - এবং এজন্যই আমরা পেনশনের জন্যে বেতন থেকে কন্ট্রিবিউশন বাড়াবার সুপারিশ করছি’।

    শুক্রবারে ঘোষিত সরকারী অবস্থানের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া হবে তা আলোচনার জন্য বৃহত্তম কর্মচারী ইউনিয়ন ইউনিসন জরুরী বৈঠকে বসবে বলে জানা গিয়েছে।

    উল্লেখ্য, সরকারের পেনশন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষকদের সাথে সমন্বিত করে পাবলিক সেক্টরের কর্মচারীদের পিসিএস ইউনিয়ন আগামী ৩০ জন ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কিন্তু সরকারের সাথে আগামী সপ্তায় অনুষ্ঠেয় দরদস্তুর-আলোচনার আগেই ধর্মঘটের পক্ষে ভৌট অনুষ্ঠানের জন্য পিসিএসকে দায়িত্বহীন বলে সমালোচনা করেছেন সরকারের মন্ত্রীরা।

    পাবলিক এ্যান্ড কমার্শিয়াল সার্ভিসেস (পিসিএস) ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মার্ক সেরয়োটকা বলেন, ‘৩০ জুনের ধর্মঘটের জন্য ভৌট দেবার কারণে আমরা সরকারের দ্বারা মারাত্মকভাবে সমালোচিত হচ্ছি, অথচ ড্যানী অ্যালেক্সজান্ডার দৃশ্যতঃ স্বীকার করছেন যে, তারা তাদের মন পরিবর্তন করবে না’।

    তিনি বলেন, ‘বিষয়টির উপর নজর-রাখা প্রত্যেক বিশেষজ্ঞই সম্প্রতি সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে, কয়েক বছর আগে যে-সকল পরিবর্তনে আমরা সম্মত হয়েছিলাম, তা পাবলিক সেক্টর পেনশনকে একটা টেকসই পদস্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত করেছে, সুতরাং (সরকার প্রস্তাবিত) কর্তনগুলো অনবশ্যক ও উস্কানীমূলক।’

    টিইউসি’র সাধারণ সম্পাদক ব্রেনড্যান বার্বার বলেন, ‘জটিল দরদস্তুর করার সঙ্কটকালে এটি (আলেক্সান্ডারের ঘোষণা) হচ্ছে গণ-পরিমণ্ডলে উত্তেজনা-বর্ধক হস্তক্ষেপ’। তিনি এ-ঘোষণাকে ‘দৃশ্যতঃ আলচনার আগেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা এবং স্থূল হুমকির এক বিসদৃশ মিশ্রণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

    তিনি বলেন, ‘ড্যানী অ্যালেক্সজান্ডারের প্রস্তাবের অনেক বিষয় এমনকি টিইউসি’র দরদস্তুরের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি এছাড়াও ট্রেইড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে টেবিলে রাখা অনেক প্রস্তাবের জবাব এখনও সরকার দেয়নি’।

    ব্রেনড্যান বলেন, ‘বহু বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমার মত হলো, কঠিন বিতর্ক সমাধানের জন্য আস্থা তৈরীর করার ক্ষেত্রে আপনাকে দরদস্তুরের কক্ষে সততার সাথে আলোচনা করতে হবে এবং বাইরে সংযত থাকার চর্চা করতে হবে।

    এদিকে, হেডটিচারদের সংগঠন জানিয়েছে, তারাও ধর্মঘটের জন্য ভৌট দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন