• পারস্য উপসাগরে লেজ়ার-অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রেরঃ উদ্দেশ্য ইরানের 'ড্রৌন ও স্পীডবৌট' ঠেকানো
    us_navy_laser.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১০ এপ্রিল ২০১২, বুধবারঃ  ইরান সংলগ্ন পারস্য উপসাগরে একটি রূপান্তরিত উভচর নৌযানে লেসার-অস্ত্র স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অত্যাধুনিক এ-প্রযুক্তির অস্ত্র ইরানের সম্ভাব্য ড্রৌন ও দ্রুতগামী স্পীডবৌটের হামলা ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন মার্কিন নৌবাহিনীর কর্তা-ব্যক্তিরা।

    যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান এ্যাডমিরাল জোনাথন গ্রীনহার্ট নতুন এ-অস্ত্রের উদ্বোধন করেন। সামরিক সূত্র জানিয়েছে স্থল, জল ও আকাশ পথে লেজ়ার-অস্ত্র ব্যবহার করা করা সম্ভব। প্রচলিত অস্ত্রের তুলনায় এ-অস্ত্র ব্যবহার বহুলাংশে খরচও কমাবে। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস জানিয়েছে, প্রতিবার 'লেজ়ারের আলোক-গুলি' ছুড়তে ১ ডলারের চেয়েও কম খরচ হবে। তবে আগামী বছরের আগে সদ্য মোতায়েন করা এ-অস্ত্র কর্মক্ষম হবে না।

    পৃথিবীর কোন নৌবাহিনীতে লেজ়ার প্রযুক্তিতে বানানো অস্ত্রের ব্যবহার এ-ই প্রথম। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড়ো সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, একটি যুদ্ধজাহাজ নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি তা বহন করতে পারে না। ফুরিয়ে গেলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে যুদ্ধ থেকে সাময়িক বিরতি নিতে হয়। কিন্তু লেজ়ার-অস্ত্রে সে-অসুবিধা নেই। কারণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে 'রশ্মির গুলি' তৈরি হয় বলে, যতোক্ষণ বিদ্যুত সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে ততোক্ষণ পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকবে লেজ়ার-অস্ত্র। এছাড়াও লেজ়ার-রশ্মি আলোর গতিতে পরিভ্রমণ করার কারণে প্রচলিত যেকোন অস্ত্রের চেয়ে তা অনেক বেশি দ্রুত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম।

    তবে লেজ়ার-অস্ত্রের দূর্বলতাও আছে কিছু। আলোর নিয়মে সরলরেখায় ভ্রমণ করার কারণে লেজ়ার-অস্ত্র থেকে ছোঁড়া 'রশ্মি-গুলি' অভীষ্ট লক্ষ্য ভেদে ব্যর্থ হলে তা অনাকাঙ্খিতভাবে বেসামরিক বিমান, এমনকি মহাকাশে স্থাপিত স্যাটেলাইটকেও আঘাত করতে পারে। এছাড়া, সকল আবহাওয়ায়ও এটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

    'ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে', এ-অভিযোগে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপের পরাশক্তিগুলোও দৃশ্যতঃ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই রয়েছে। দেশটির আরেক মিত্র ইসরায়েল, অগ্রীম হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের আয়োজন ধ্বংস করে দিতে চায়।

    কিন্তু ইরান বরাবরই এ-অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা করলে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবার হুমকিও দিয়েছে দেশটি। উল্লেখ, এ-প্রণালী দিয়ে পৃথিবীর প্রায় ২৫শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। তাই এটি বন্ধ করে দিলে তা বিশ্ব-অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইরানের উপকূলের কাছে ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রর সাথে দেশটির নৌবাহিনী যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিলো।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন