সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- পাহাড়ে সহিংসার প্রতিবাদে ঢাকায় 'আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্দোলন'
পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংসার প্রতিবাদে ঢাকায় সংহতি সমাবেশ ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে 'আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্দোলন'। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দ্বীপে আয়োজিত সমাবেশে রাজনীতিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংস্কৃতিক কর্মী সকল স্তরের সাধারণ মানুষ-জন অংশ নেন।
'পাহাড়ে গণহত্যার বিচার চাই', 'সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার কর', 'দখলকৃত ভূমি ফিরিয়ে দাও' - এসব শ্লৌগান সম্বলিত আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্দোলনের মঞ্চে বুধবার বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন। তিনি নিজেকে দেশের সংখ্যাগুরু জাতিসত্বার প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, 'একজন সাধারণ বাঙালী হিসেবে বাঙালী জাত্যাভিমানীদের শিকার পাহাড়ী জনগোষ্ঠির কাছে ক্ষমা চাইছি'। এছাড়া তিনি ১৯৭১ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সে সময় আত্ম-নিয়ন্ত্রনাধিকারের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি অথচ আজ একই উদ্দেশ্যে পাহাড়িদের লড়াইকে সবাই সমর্থন করতে পারছে না। তিনি পাহাড়ীদের স্বায়ত্ব-শাসনের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
বাংলাদেশ সামুদ্রিক অঞ্চল ও সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি'র আহবায়ক নূর মোহাম্মদ পাহাড়ীদের দুই সংগঠন জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ এর মধ্যে বিভাজনকে দুঃখজনক

উল্লেখ করে বলেন, এই বিভাজনের সুযোগ নিচ্ছে পাহাড়ী জনগোষ্ঠির শত্রুরা। নিজেদের মধ্যেকার বিভেদ দূর করে নিজেদের স্বার্থেই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাহাড়ীদের প্রতি আহবান জনান তিনি।
পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহনগর শাখার সাধারন সম্পাদক বাবলু চকমা বলেন, পাহাড়ের সহিংসতা বন্ধে অনেক প্রতিবাদ, আন্দোলন, শান্তির জন্য মিছিল হয়েছে। কিন্ত সেখানে শান্তি আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে সংঘটিত সহিংসতার তদন্ত রিপোর্ট আদৌ প্রকাশ হবে কি না সে বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
সঙ্গীত শিল্পী কাজী কৃঞ্চকলি ইসলাম বলেন, যে সেনাবাহিনীকে পাহাড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাখা হয়েছে সে সেনা বাহিনীর উপস্থিতিতে কিভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়? পাহাড়ী অঞ্চলে বসবাসরত জাতিগোষ্ঠির উপর বাঙালীদের যে সহিংসতা চলছে তার দায়ভার বাঙালী শাসকশ্রেণীর উপরই বর্তায়। তিনি অবিলম্বে পাহাড় থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির আহবায়ক জ্ঞান বুদ্ধি চাকমা বলেন, পাহাড় থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে সেখানে শান্তি ফিরে আসবে। ধীরে-ধীরে পাহাড়ী-বাঙালী বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে। তিনি পাহাড়ীদের উপর চলমান নিপীড়নের চিত্র দেখে আসার জন্য দেশের সচেতন ব্যক্তিদের পার্বত্য এলাকা পরিদর্শনের আহবান জানান।
'আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্দোলন' এর সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন গণসঙ্গীত শিল্পী কামরুদ্দিন আফসার, গণসাংস্কৃতিক ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টু, পাহাড়ী ছাত্র

পরিষদের সভাপতি অঙ্গ মারমা, বাংলাদেশ আধিবাসী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাতায়ন চাকমা। এছাড়া বৃহস্পতিবারের আয়োজনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন রাজনীতিবিদ টিপু বিশ্বাস, মোশরেফা মিশু, এডভোকেট আব্দুস সালাম, জোনায়েদ সাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জাহিদ হাসান মাহমুদসহ দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন লিটলম্যাগসহ সাপ্তাহিক বুধবার, নিউজ ভিশন ডট কম।
বৃক্ততা-পর্ব শেষে গত ৪০ বছরাধিককাল পাহাড়ে সংঘটিত সহিংসায় নিহতদের স্মরণে প্রাচ্যনাট পরিবেশন করে পথনাটক 'স্মরণে'। প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে প্রপদ, সৃজন, লীলা, সমগীত, চিৎকার, রাজু, হিতোষী চাকমা, শ্যামাবতী চাকমা, ত্রিবিনাথ চাকমা, অভিজিত দাস এবং নুসরাত। এছাড়াও 'জাগাহারা পালা' এবং 'মায়ের কথা' নামের দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
০৪/০৩/১০
পাঠকের প্রতিক্রিয়া
we r not suport so colld adebashi activity we r bangladesh all r united this bangladesh land army must stay for bangladeshi people sicurity love bangladesh we r all bangoli not ahdebashi love bangladesh people
@Anonymous
Do you mean to say that the indigenous people are not Bangladeshi? But to disappoint you, the state laws and constitution say the opposite. Which means, you are advocating people to believe an illegal statement. I think for legal reasons we all should carefully refrain ourselves from doing something like this!
The law should not and does not make any distinction between peoples living in the same country. Regardless of their identity, everyone must be treated as a respected citizen of the country as far as the rule of law is concerned. So, you can't say that "the army must stay to help Bangladeshi peoples' security.". Again, that is illegal too!
If the state decides to deploy army somewhere, they must not make them (troops) act in favour of any party e.g. Bengali settlers or indigenous people. They must act only on laws. Full stop.
ভূমি সংস্কার না করে বাঙালি সেটলার দিয়ে আদিবাসীদের ভূমি দখল করে রাখলে এই ডেডলক খুলবে না। অবিলম্বে পাহাড় থেকে বাঙালি অভিবাসীদেরকে সরিয়ে নিয়ে পাহাড়ে ভূমি সংস্কার করা হোক। এবং রাষ্ট্রের মহান চৌকিদারদের প্রত্যাহার করে নেয়া হোক। নচেৎ এই কাটাকাটি একদিন দেশ কাটাকাটিতে পরিনত হবে।