• পুলিস-প্রাইভেটাইজেশনঃ পুলিসের অর্থ-সঙ্কট ঘুচাতে বিলিয়ন পাউণ্ডের ব্যবসার সৃষ্টি
    British-Police.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩ মার্চ ২০১২, শনিবারঃ  ব্রিটেইনের বিশ্ব-বিখ্যাত পুলিসী ব্যবস্থা বেসরকারী খাতে ছেড়ে দেবার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানীর কাছ থেকে দরপত্র এনে, তাদের সাথে কথাবার্তা বলা হচ্ছে। এর পেছেন পুলিস-বাজেটে আর্থিক সঙ্কটের এড়ানোর যুক্তি থাকলেও, স্পষ্টতঃ কয়েক বিলিয়ন পাউণ্ডের ব্যবসা তৈরী হবে প্রাইভেট কোম্পানীরগুলোর জন্য, যদিও জনসেবা কতোটা অগ্রাধিকার পাবে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ।

    ইংল্যাণ্ড ও ওয়েলসের সমগ্র পুলিস বাহিনীর পক্ষ থেকে ওয়েস্ট মিডল্যাণ্ডস ও সারের পুলিস কর্তৃপক্ষ প্রাইভেটাইজেশন প্রক্রিয়ায় দরদস্তুর করছে। সমগ্র ‘কন্ট্রাক্ট’-এর মূল্য সাত বছর মেয়াদের জন্য ১.৫ বিলিয়ন পাউণ্ড ধরা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ৩.৫ বিলিয়ন পাউণ্ডে উন্নীত হতে পারে বলে দাবী করেছে বিবিসি।

    পুলিস বাজেটে ৪ বছর মেয়াদী ২০% কর্ত্তন আরোপ করার কারণে যে-কৃচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, তারই অনিবার্যতা হিসেবে প্রাইভেটাইজেশনের ব্যবস্থাপত্র সামনে এসেছে।

    চীফ পুলিস অফিসারদের সংগঠন এ্যাকপো’র ওয়ার্কফৌর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের চীফ কনস্টেবল পিটার ফ্যাহি বলেন, ‘আর্থিক সঙ্কট এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাত্রা উপেক্ষা করতে পারেন না।

    তার আগে হৌম সেক্রেট্যারী টেরেসা ম্যে বলেছেন, ‘ফ্রন্ট-লাইন পুলিসিং’ সুরক্ষার্থে বাহিনীর কোনো-কোনো কাজ প্রাইভেট সেক্টরে দেয়া যেতে পারে।

    লেবার পার্টির শ্যাডৌ হৌম সেক্রেট্যারী ইভেট কূপার বলেছেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ-সমূহ ফলপ্রসূ হলেও এদের ‘সেই সীমা লঙ্ঘন করতে দেয়া ঠিক নয়, যার ফল জনগণের আস্থা অথবা নৈর্ব্যক্তিক ব্রিটিশ পুলিসী ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত নীতিমালা ঝুঁকির মধ্য পতিত হয়।’

    স্পষ্টতঃ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পুলিস প্রাইভেটাইজেশনের সীমা নিয়ে মত-পার্থক্য থাকলেও নীতিগত প্রশ্নে কোনো পার্থক্য নেই। 

    এদিকে, পুলিস ফেডারেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইমন রীড পুলিস প্রাইভেটাইজেশনকে ‘চরম বিপদজনক পথে হাঁটা’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘পুলিসী ব্যবস্থায় প্রাইভেট কোম্পানীগুলো অগ্রাধিকার দেবে তাদের মুনাফাকে, জনগণকে নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভুললে চলবে না যে, কোম্পানীগুলোর জবাবদিহিদা থাকবে তাদের শেয়ারহৌল্ডারদের প্রতি, আমাদের সেবাপ্রাপ্ত জনগণের প্রতি নয়।’

    পুলিস মিনিস্টার নিক হার্বার্ট জানিয়েছেন, ‘কৌর পুলিসিং’ অর্থাৎ, পুলিসের মূল কাজ প্রাইভেট কোম্প্যানীগুলোর হাতে ছেড়ে দেয়া হবে না। হৌম অফিসও গুরুত্বারোপ করে বলেছে যে, গ্রেফতার করা কিংবা অপরাধের তদন্তের কাজ একক ভাবে প্রাইভেইট কোম্পানীগুলোকে দেয়া হবে না।

    উল্লেখ্যে, বর্তমান ব্যবস্থাতে কিছু-কিছু পুলিসী তৎপরতা প্রাইভেট কোম্পানীগুলো করছে। এর মধ্যে রয়েছে দোকানে চুরি ঠেকাত গোয়েন্দাবৃত্তি ও গ্রেফতার, গণস্থানে প্যাট্রোল ও সিসিটিভি নজরদারী এবং কারাগার ও আদালতের মধ্যে কয়েদী পরিবহন।

    শুরুতে সীমিত থাকলেও অধিকতর প্রাইভেটাইজেশনের ফলে ব্রিটেইনের পুলিসী ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি অনেকের কাছে উদ্বেগের বিষয়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন