• পেনশন নিয়ে লড়াইঃ দেশব্যাপী শিক্ষক ও সরকারী কর্মচারীদের ধর্মঘট পালিত
    Biggest-school-strikes-si-007.jpg

    ইউকেবঙ্গলি, ৩০ জুন ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  শিক্ষকদের তিনটি ইউনিয়ন এবং সরকারী কর্মচারীদের প্রধান ইউনিয়নের যুগপৎ ধর্মঘটে সারাদেশে আজ হাজার-হাজার স্কুল বন্ধ থাকে এবং সরকারী বিভিন্ন পরিষেবা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ব্যাহত হয়, তবে ধর্মঘটের অভিঘাত সম্পর্কে সরকার ও ধর্মঘটীদের মধ্যে পরস্পর বিরোধী অভিমত লক্ষ্য করা গিয়েছে।

    কনসার্ভেটিভ ও লিব-ডেমের জোট-সরকারের প্রস্তাবিত পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ শিক্ষক সরকারী কর্মচারী বৃহস্পতিবার তাদের পূর্ব-ঘোষিত ধর্মঘট পালন করেছে।  প্রস্তাবিত সংস্কারে অবসর গ্রহণের বয়স বৃদ্ধি,  পেনশনের জন্য  মাসিক বেতন থেকে 'কন্ট্রিবিউশন' বৃদ্ধি ও পেনশনের পরিমাণ হ্রাসের কথা বলা হয়েছে।

    আনুষ্ঠানিক ভাবে যদিও সরকারের সাথে ইউনিয়নগুলোর আলোচনা শেষ হয়নি, কিন্তু এ-আলোচনায় সরকার আর অবস্থান ছাড়ছে বলে অভিযোগ করে শিক্ষকদের ৩ ইউনিয়ন এবং সরকারী কর্মচারীদের ইউনিয়ন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়।

    দৈনিক গার্ডিয়ান বৃহস্পতিবারের স্কুল ধর্মঘটকে ১৯৮০ দশের পর সর্ববৃহৎ বলে উল্লখ করে। বিবিসি জানায়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কমপক্ষে ১২,০০০ স্কুল পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ ছিলো, তবে ইউনিয়ের দাবী, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৮০% স্কুল থেকে সংগৃহীত উপাত্তের ভিত্তিতে বলে যে, শিক্ষকদের ধর্মঘট ইংল্যান্ডের ২১,৫০০টি সরকারী স্কুলের মধ্যে ১১,১১৪টি আঘাত করে এবং ওয়েলসে ১,৮০০০টি স্কুলের মধ্য ১০০০টি সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ ছিলো।

    সরকারী কর্মচারীদের ইউনিয়ন পিসিএস দাবী করে সারা দেশে ২০০,০০০ কর্মচারী ধর্মঘটে অংশ গ্রহণ করছে। কিন্তু সরাকার বলেছে, ধর্মঘটী কর্মচারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০,০০০।

    সংবাদ মধ্যগুলোর রিপৌর্ট অনুযায়ী, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ-ভাবেই পালিত হয়েছে; তবে কেন্দ্রীয় লন্ডনে কিছু বিচ্ছিন্ন আক্রমণাত্মক ঘটনায় পুলিস ৩০জনকে গ্রেফতার করেছে বলে দিনের শেষে দৈনিক গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

    এদিকে যে-যুক্তি সরকার পেনশন সংস্কারের প্রস্তাব করেছে এবং যা না করলে পেনশন পদ্ধতি ‘ভেঙ্গে পড়বে’ বলে প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন দাবী করেছেন, সে-যুক্তিই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রেডিও ফৌরের টুডে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ইভান ডেইভিস পিসিএস ইউনিয়নের সেক্রেট্যারী মার্ক সেরওয়াটকা ও ক্যাবিনেট অফিস মিনিস্টার ফ্রান্সিস মডের সাথে এক বিতর্ক-আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, লর্ড হাটনের যে রিপৌর্টটির উপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পেনশন পদ্ধতি ভবিষ্যতের জন্য বহনযোগ্য নয় এবং সংস্কার না করলে ভেঙ্গে পড়বে বলে দাবী করেছেন, তাতে এক কথাও কোথাও বলা হয়নি। ডেইভিস বিপরীতক্রমে রিপৌর্টের পূর্বোক্তির রেখাচিত্র উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমান দেশের জিডিপির (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) যে অংশ পেনশনে খরচ হচ্ছে (১.৯%), কয়েক দশক পর বাস্তবে তা আরও কমে (১.৪%) আসবে।

    বিষয়টি দ্রুত ব্রিটেনের সমস্ত সংবাদ-মাধ্যমে উঠে আসে এবং ইউনিয়নগুলোর আন্দোলনের নতুন নৈতিক মাত্রা যোগ করে। ইউনিয়ন নেতা সেরওয়াটকা, সরকারকে আপোসে মিথ্যার আশ্রয় নেবার দায়ে অভিযুক্ত করেন। তিনি রেডিও আলোচনায় মিনিস্টারকে সুবিধাভোগী ও স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের প্রতি বিবেচনাহীন বলে উল্লেখ করেন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন