• পেনশন-সংস্কারের প্রতিবাদে 'প্রজন্মের বৃহত্তম' ধর্মঘট ব্রিটেইনেঃ যোগ দিয়েছে ২০ লাখ কর্মী
    uk_30nov11_public_sector_trike.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩০ নভেম্বর ২০১১, বুধবারঃ  পেনশন প্রক্রিয়ায় সংস্কার ও কর্মীদেরকে বেশিদিন কাজ করানোর সরকারী উদ্যোগের প্রতিবাদে আজ ধর্মঘট ডেকেছে ব্রিটেইনের সরকারী কর্মীদের ইউনিয়নগুলো। ইউনিয়নসূত্রে জানা গেছে, গত তিন দশকের মধ্যে বৃহত্তম এ-কর্ম-বিরতিতে যোগ দিয়েছেন ২০ লাখেরও বেশি সরকারী কর্মী। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডে ৩লাখ এবং ওয়েলসে ১লাখ ৭০ হাজার কর্মী রয়েছেন। নাখোশ অর্থমন্ত্রী জর্জ ঔসবর্ন বলেছেন, 'ধর্মঘটে কোন কাজ হবে না'।

    বিদ্যালয়, হাসপাতাল, আদালত, সরকারী কার্য্যালয়, স্থানীয় কাউন্সিল, জব-সেন্টার, লাইব্রেরী, কমিউনিটি সেন্টার, এ্যাম্বুলেন্স ও  বিমান-বন্দর-সহ প্রায় সকল ধরনের সরকারী কর্মকাণ্ড কার্যতঃ স্থবির হয়ে পড়েছে আজকের এ-ধর্মঘটে। সরবরাহকৃত শিক্ষকদের সহায়তায় ইংল্যান্ডে ১৩ শতাংশ বিদ্যালয় খোলা রাখা হয়েছে আর স্কটল্যান্ডের ২,৭০০টির মধ্যে  মোটে ৩০টি সরকারী শিক্ষালয় চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডে সকল বাস ও ট্রেইন বন্ধ রয়েছে আজ। ইংল্যাণ্ডের ৪লাখ নার্স ও সংশ্লষ্ট সেবা-কর্মী পালন করছেন কর্ম-বিরতি। ওয়াইট হল ভবনের সরকারের রাজস্ব সংগ্রহকারী সংস্থা 'এইচএমআরসি'র শতকরা ৭০ ভাগ কর্মীই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের নেতারা।

    কনসার্ভেটিভ ও লিবারেল-ডেমৌক্র্যাটের কোয়ালিশন সরকারের অর্থমন্ত্রী তাঁর পেনশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনায় অটল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি ধর্মঘটীদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, 'ধর্মঘট করে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। এতে আমাদের অর্থনীতি কেবল দুর্বলই হবে, আর বাড়বে চাকুরীচ্যুতির সম্ভবনা'। তিনি আরও বলেন, 'কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলে ব্রিটেইন দেউলিয়া হয়ে যাবে'। বিরোধী লেবার-পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড বলেছে, 'ধর্মঘটে যাদের দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে, তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি রয়েছে, কিন্তু নার্স ও শিক্ষকদের মতো লক্ষ-লক্ষ কর্মীকে সরকার বেকায়দায় ফেলেছে তাদেরকে আমি নিন্দা করতে পারি না'।

    উল্লেখ্য, নতুন পেনশন-পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারী কর্মীদেরকে বেশিদিন কাজ করতে হবে কিন্তু তাদের অবসর-ভাতা কমে যাবে এবং উপার্জিত বেতন থেকে পেনশনের-বাবদ কর্তনও বেড়ে যাবে। বর্তমান নিয়মে অবসরে যাওয়ার সময় একজন কর্মীর সর্বশেষ বেতনের ভিত্তিতে অবসর-ভাতার পরিমাণ নির্ণিত হয়, নতুন ব্যবস্থায় তা কমে সমগ্র চাকুরীজীবনের গড়-বেতনে নেমে আসবে।

    সরকার প্রস্তাব করছে, বেতন থেকে পেনশন-কর্তনের পরিমাণ বাড়িয়ে সরকারী কর্মীদের কাছ থেকে বার্ষিক ৩০০ কোটি (৩বিলিয়ন) পাউন্ড অতিরিক্ত তহবিল প্রাপ্তির। ধর্মঘটী কর্মীরা এর প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক-ঘাটতির জন্য তাঁরা কোনোভাবে দায়ী নই, অথচ সরকার আমাদের বেতন থেকে বাড়তি অর্থ কাটতে চাইছে। অন্যদিকে যাঁরা এ-অবস্থার জন্য দায়ী, সেই ব্যাঙ্কারদের বোনাসের উপর আরোপিত কর মওকুফ করে দিচ্ছে একই সরকার'।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন