• পৌপের সফরের জন্য সরকারী ব্যয়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশরা

    পৌপ ষোড়শ বেনেডিক্টের আসন্ন সফরের পেছনে সরকারী অর্থ ব্যয়ের কড়া বিরোধীতা জানিয়েছে ব্রিটেইনের মানুষ-জন। সদ্য প্রকাশিত জনমত জরীপ থেকে এ-তথ্য পাওয়া গেছে। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের যথাক্রমে ৭৭ শতাংশ ও ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা এ-ধরনের মনোভাব পোষণের কথা জানিয়েছেন। বেনেডিক্ট ১৬-১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য সফর করবেন। ক্যাথলিক চার্চের যাজকদের দ্বারা শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন-নিপীড়নের নানান খবর ফাঁস হতে থাকার পরও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে ব্যর্থতার জন্য পৌপকে গত বেশ কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। পৌপ যুক্তরাজ্যে আসলে তাকে গ্রেফতার করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানোর সাথে-সাথে আইনী প্রস্তুতি নেয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে মিডিয়াতে।

    থিওজ পরিচালিত জরীপ থেকে প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায় ইংল্যান্ডের ৭৭ শতাংশ মানুষ পৌপের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থ-ব্যয়ের বিরোধী। সরকারীভাবে পৌপের সফরটিকে ভ্যাটিকানের রাষ্ট্র-প্রধান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন পৌপ একজন ধর্মগুরু হবার কারনে তার পেছনে সরকারী অর্থ ব্যয় করাটা সঙ্গত নয়। ইংল্যান্ডজুড়ে ২০০৫ জন প্রাপ্ত-বয়ষ্ক নাগরিকের উপরে জরীপটি চালানো হয়েছে। এদিকে, ইংল্যান্ডের মত স্কটল্যান্ডেও পৌপের পেছনে সরকারী অর্থ ব্যয় করার তুমুল বিরোধীতা জানিয়েছে জনগন। কমরেস পরিচালিত জরীপে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে ৮১ শতাংশই জানিয়েছেন যে তারা পৌপের জন্য সরকারী অর্থ ব্যয়ের বিপক্ষে। এছাড়াও ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানান পৌপের সফরের ব্যাপারে তারা আদৌ আগ্রহী নন। ১৬ সেপ্টেম্বর পৌপের স্কটল্যান্ডের এডিনবরা আগমনের মধ্য দিয়ে পৌপের যুক্তরাজ্য সফর শুরু হবার কথা।

    হিসাবে প্রকাশ, পৌপের তিনদিনের সফরকালে খরচ হবে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড বা তার বেশি। যুক্তরাজ্যের ক্যাথলিক চার্চে এই ব্যয়ের অর্ধেকের মত (১০ মিলিয়ন) বহন করলেও বাকী অর্থের যোগান দেবে যুক্তরাজ্য সরকার। পৌপের পেছনে সরকারী ব্যয়ের পরিমান ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন পাউন্ড হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও পৌপ-বিরোধী বিক্ষোভগুলো ঠেকানোর জন্য আগে থেকে বাড়তি পুলিশী-ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারকে আরো কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হবে। জরীপে প্রাপ্ত তথ্যের ব্যাপারে মন্তব্যকালে ন্যাশনাল সেক্যুলার সৌসাইটির প্রধান টেরী স্যান্ডারসন উল্লেখ করেন যে করদাতাদের অর্থের চরম অপচয়ের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে বিরাজমান মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে থিও এর জরীপটিতে। তিনি আরো বলেন, “এটা সত্যিই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠার মতই ব্যাপার যে সরকার এই ধর্মগুরুর নিরাপত্তা রক্ষার খরচটিও বহন করতে যাচ্ছে।” ১৯৮২ সালে দ্বিতীয় জন পলের পর এই প্রথম কোন পৌপ ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের সফরটি ছিলো সাড়ে চারশ বছরের মধ্যে কোন পৌপের প্রথম  ইংল্যান্ড । ১৫৩৪ সালে রাজা ত্রয়োদশ হেনরী রৌমের চার্চের সাথে ইংল্যান্ডের সম্পর্কচ্ছেদ করেন। 

    ০৫/০৯/১০

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন