• প্যালেস্টাইনী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রত্বের প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘেঃ মার্কিন ভিটো সামনে
    Palestine-recognition.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১, মঙ্গলবারঃ বহু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত প্যালেস্টাইনী কর্তৃপক্ষ আজ ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের কাছে একটি প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দাবী করবে।

    মঙ্গলবারে রামাল্লায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদ-সম্মেলনে পিএলও’র প্রধানতম অংশ ও পশ্চিমতীরের ক্ষমতাসীন ফাতাহ’র কেন্দ্রীয় কমিটীর জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ শাতায়েহ জানান, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে প্যালেস্টাইনী রাষ্টের প্রস্তাব করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘে যাচ্ছি, আমরা নিরাপত্তা পরিষদের কাছে যাচ্ছি - আমরা ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ণ সদস্যত্ব চাইতে যাচ্ছি।’

    প্যালস্টাইনী প্রস্তাবের পূর্ণ রূপরেখার উপর আলোকপাত করে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসে এ-সপ্তাহ’র শুক্রবার রাতে ভাষণ দিবেন।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের স্বীকৃতি পেতে প্যালস্টাইনী কর্তৃপক্ষের কোনো বেগ পেতে হবে না। প্রায় ১২০টি সদস্য দেশ ইতোমধ্যে সমর্থন দানের প্রতিজ্ঞা করেছে বলে জানিয়েছেন প্যালেস্টাইনী কর্তৃপক্ষের প্রধান দরদস্তুরকারী সায়েব এরেকাত।

    এদিকে, জাতিসংঘে প্রস্তাব পরিকল্পনা সম্পর্কে গাজা কর্তৃত্বকারী ইসলামবাদী ও অপেক্ষাকৃত কঠোরপন্থী সংগঠন হামাসের পক্ষ থেকে সক্রিয় বিরোধিতা না থাকলেও তেমন কোনো উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

    হামাসের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে আরব সংবাদ-মাধ্যম আল-জাজিরা জানাচ্ছে, মাহমুদ আব্বাস এ-বিষয়ে হামাসের সাথে কোনো আলোচনা করেননি। তাঁরা এ-প্রচেষ্টাকে ঔসলো চুক্তির মতোই একান্ত ফাতাহ তথা আব্বাসের উদ্যোগ বলে মনে করছেন।

    আজকের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল সরকারী পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু’র মুখপাত্র মার্ক রেগেভ প্যালেস্টাইনী কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার প্রতি সরকারের পূর্ববর্তী অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করেন। জাতিসংঘের স্বীকৃতিতে একট টুকরো কাগজ ছাড়া বাস্তবে স্বাধীন রাষ্ট্র মিলবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    এদিকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ২৭ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ সদস্য প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রত্বের প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও এখনও পর্যন্ত তারা কোনো যৌথ সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্যালেস্টাইনীদের জাতিসংঘে না গিয়ে ইসরায়েলের সাথে দরদস্তুরে বসার অনুরোধ জানিয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ওবামার ভিটোতে না যেয়ে কীভাবে প্যালেস্টাইনীদের বিরত করা যায়, তার জন্য এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    মার্কিন রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ভিটো আরব ও মুসলমি বিশ্বকে আরও একমাত্রায় মার্কিন-বিরোধিতার দিকে ঠেলে দেবে। কিন্তু দেশটির ইসরায়েল-পালন নীতির কারণেই তাঁর ভিটো দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

    অনেক প্যালস্টাইনীই মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিশ্চিত ভিটো এড়াতে মাহমুদ আব্বাসের উচিত হবে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে প্রস্তাব না করে সাধারণ পরিষদের কাছে প্রস্তাব করা।

    উল্লেখ্য, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের প্রস্তাব সফল হতে হলে সাধারণ পরিষদের সমর্থন লাভের পর নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তবে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে কোনো এক সদস্য যদি ভিটো দেয়, তাহলে প্যালেস্টাইনের পক্ষে পূর্ণ-সদস্যত্ব না পেলেও পর্যবেক্ষক-সদস্যত্ব - ভ্যাটিকানের মতো - পাওয়া সম্ভব।

    ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা পরিষদে একবার মার্কিন ভিটো পাবার পর প্যালেস্টাইনী কর্তৃপক্ষ আবার প্রস্তাব করে দ্বিতীয় ভিটো প্রয়োগে দেশটিকে বাধ্য করবে।

    প্যালেস্টাইনী প্রেসিডেন্ট আব্বাস আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিবেন বলে সাব্যস্ত হয়েছে। 

    এদিকে, মিশর সফরকারী তুর্কী প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার কায়রোতে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে বক্তৃতা করতে গিয়ে বলেন যে, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আজ কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, দায়িত্বের বিষয়। তিনি প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি তুরস্কের দৃঢ় সমর্থন ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন