• প্রবৃদ্ধি-পূর্বোক্তিতে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের পিছপাঃ সামনে ঝড় প্রবলতর
    Bank-of-Eng-Gov.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১১ অগাস্ট ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মনেট্যারী পলিসি কমিটী (এমপিসি) দেশের অর্থনীতির বিষয়ে তাদের তিন মাস আগের প্রত্যাশা ত্যাগ করে গতকাল বুধবার প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে দেখিয়েছেন। ব্যাংকের গভর্নর স্যার মার্ভিন কিং ব্রিটেইনের অর্থনীতির সামনে কঠিন দিন আসছে বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন।

    ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের নয়-সদস্য বিশিষ্ট মনেট্যারী পলিসি কমিটী তাদের বুধবারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থনীতির পর্যালোচনা শেষে চলতি বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বোক্তিকে ১.৫% পুনঃনির্ধারিত করছেন, যা তিন মাস আগের ধ্যার্য-করা ১.৮% এর চেয়ে ০.৩% কম।

    ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের নতুন ধার্য্য-করা প্রবৃদ্ধি-পূর্বোক্তির হার এমনকি, অফিস ফর বাজেট রেসপসিবিলিটির করা ১.৭% পূর্বোক্তির চেয়েও কম।

    ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড পূর্বোক্তি অনুসারে, কর বৃদ্ধি ও জীবন-যাপনের খরচের দ্রুত বৃদ্ধিতে অর্থ-সঙ্কটগ্রস্ত ভোক্তারা আরও কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়বেন।

    আগামী বছর, অর্থাৎ ২০১২ সালের জন্যও ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড ব্রিটেইনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি-পূর্বোক্তি হ্রাস করে  ২% দেখিয়েছে, যা অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির করা প্রবৃদ্ধি-পূর্বোক্তির চেয়ে ০.৫% কম।

    স্যার মার্ভিন কিংয়ের নেতৃত্বাধীন ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মনেট্যারী পলিসি কমিটীর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পরিবারসমূহের প্রকৃত আয়ের সঙ্কোচন তাদের গার্হাস্থ্য চাহিদা হ্রাস করবে, বিশেষতঃ আগামী বছর বা তদ্রূপ কালের জন্য।’

    গভর্নর কিং সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, প্রবৃদ্ধি পূর্বোক্তিতে সংখ্যা-গণকেরা যা হিসেবে ধরেননি, তা হলো ইউরোজৌনে পূর্ণমাত্রার সার্বভৌম ঋণের মতো ‘অনুল্লেখ্য ও অকল্পনীয়’ ঝুঁকি - যা সংখ্যায় প্রকাশ করা অসম্ভব।

    কিং বলেন, অর্থ-বাজারের ঘটমান ‘নাটক’ এ-সত্যকেই প্রতিফলিত করে যে, উত্থানের বছরগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ভারসাম্যহীনতা তৈরী হয়েছিলো তার নিরসন আজও অবধি হয়নি। তিনি বলেন, ‘মনেট্যারী পলিসি কী করতে পারে, তার একটা পরিসীমা আছে।’ গভর্নর বলেন, ‘এখানে সিগনিফিক্যান্ট এ্যাডজাস্টমেন্ট তৈরী করার প্রয়োজন রয়েছে।’

    গভর্নর স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে অবস্থার অবনতি ঘটলে নতুন করে আবারও ‘কোয়ান্টিটেটিভ ঈজিং’ দিকে যেতে হবে।

    উল্লেখ্য, কোয়ান্টিটেটিভ ঈজিং হচ্ছে, জাতীয় অর্থনীতি অকার্যকর হলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত একটি অপ্রথাগত মুদ্রা নীতি, যেখানে ইলেক্ট্রনিকভাবে সৃষ্ট মুদ্রা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যক্তি-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ‘ফাইন্যানশিয়াল এ্যাসেট’ বা আর্থিক-সম্পত্তি ক্রয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তাদের গচ্ছিত সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে তাদের অর্থ-সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বিনিয়োগের ফল হ্রাস পায়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন