• প্রশান্ত মালদ্বীপে অশান্ত রাজনীতিঃ বন্দুকের মুখে পদত্যাগ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশীদের
    Nasheed.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১২, বুধবারঃ  ভারত মহাসগরীয় শান্ত-সুনীল সৈকতের পর্যটক আকর্ষক দেশ মালদ্বীপ রাজনৈতিক ভাবে অশান্ত হয়ে উঠেছে গতকাল প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশীদের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে, যা তাঁর আজকের দাবী অনুসারে, তিনি করেছেন সেনাবাহিনীর সশস্ত্র হুমকির মুখে।

    দীর্ঘ একনায়কী শাসনের অবসানে ২০০৮ সালে প্রবর্তিত মালদ্বীপের বহুদলীয় ব্যবস্থায় প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশীদ গতকাল এক টেলিভাষণের মধ্য দিয়ে পদত্যাগ করলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁরই ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওয়াহীদ হাসান মানিক। কিন্তু আজ নাশীদ দাবী করেছেন যে বন্দুকের মুখে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

    গতকাল রাজধানী মালের পরিস্থিতি থমথমে থাকার পর আজ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নাশীদের দল মালদিভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির - এমডিপির - সদস্য ও সমর্থকদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে।

    এমডিপি’র বিক্ষোভের সমাবেশে মোহাম্মদ নাশীদও সশরীরে রয়েছেন এবং তিনি পুলিসের হাতে প্রহৃত হয়েছেন বলেও দাবী করা হচ্ছে তাঁর দলের পক্ষ থেকে।

    সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, বিক্ষুব্ধ এমডিপি কর্মীরা পুলিসের উপর পেট্রৌল বোমা ছোঁড়ে এবং নাশীদ-বিরোধী পূর্বগামী প্রচারণার কারণে তাঁরা একটি টেলিভিশন কেন্দ্র আক্রমণ চালায়।

    উল্লেখ্য মালদ্বীপের তিন দশকের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল গাইয়ূমের তৎকালীন সরকারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি মামলায় বাধ সাধার অভিযোগে একজন বিচারপতি গ্রেফতারের জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিলে গত কয়েক সপ্তাহ রাজধানীতে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয় এবং তা শেষ পর্যন্ত পুলিস-বিদ্রোহে রূপ লাভ করে। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর লোকেরাও পুলিসের পক্ষাবলম্বন করলে প্রেসিডেন্ট নাশীদ তাঁর শক্তি-ভিত হারান।

    কোন্‌ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পদত্যাগ করেছে, তা বুঝাতে গিয়ে আজ নাশীদ বলেন, ‘আমার চতুর্দিক ছিলো বন্দুক এবং আমাকে বলা হয়, পদত্যাগ না করলে ঐগুলো ব্যবহারে তারা দ্বিধা করবে না।’

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে পদত্যাগের পিছনে ষড়যন্ত্রমূলক একটি সামরিক অভ্যূত্থান কাজ করেছে বলে অভিযোগ করে মোহাম্মদ নাশীদ দেশের প্রধান বিচারপতির প্রতি বিষয়টি অনুসন্ধানের আহবান জানান।

    গতকাল তাঁকে সেনা-পরিবেষ্টি অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ভবন ত্যাগ করতে দেখা যায় এবং তার পরবর্তীতে টেলিভিশনে পদত্যাগের ঘোষণা দৃশ্যতঃ সামরিক সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা-সূচক। তবে, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা পাওয়া ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওয়াহীদ হাসান মানিক বলেছেন, ক্ষমতা হস্তান্তর ছিলো শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক।

    সামরিক ক্যু’র অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মানিক বলেন, ‘আমাকে দেখে কি মনে হয় যে আমি ক্যুদেতা ঘটাতে পারি?’ ক্ষমতা গ্রহণের জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না দাবী করে মানিক বলেন, তিনি ঐক্যমতের সরকার গঠন করবেন।

    এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা এড়াবার লক্ষ্যে সাংবিধানিক পদক্ষেপ হিসেবে ক্ষমতার হস্তান্তরের যে ঘোষণা এসেছে, তা দেশটিকে মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাওয়া চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসার পথ উন্মুক্ত করবে।’

    উল্লেখ্য, মোহাম্মদ নাশীদ মালদ্বীপে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের পুরোধা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ইংল্যাণ্ডে শিক্ষিত নাশীদ ২০০৮ সালের আগে পর্যন্ত পুনঃপুন কারাগারে আন্তরীণ হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গাইয়ূমের বিরোধিতার কারণে।

    বিশ্লেষকদের মতে, তিন বছর আগে নাশীদ জনপ্রিয় ভৌটে বিজয়ী হলেও দীর্ঘ তিন দশকে দ্বীপ-রাষ্ট্রটির বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে প্রতিষ্ঠিত কায়েমী স্বার্থ-চক্রের কাছে তিনি পরাস্ত হন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন