• প্রেসিডেন্ট পুতিনের 'গুরুত্বপূর্ণ' ভারত সফরঃ প্রায় পাঁচশো' কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি
    india_russia_summit_12_putin_with_manmohan.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, মঙ্গলবারঃ গতকাল ত্রয়োদশ ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সামিট উপলক্ষ্যে ভারত সফর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়া ও ভারত উভয় তরফ থেকেই 'গুরুত্বপূর্ণ' বলে আখ্যায়িত এ-সফরে প্রায় পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলারের সমরাস্ত্র ও বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি-সহ মোট ১০টি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। খবর এপি, দ্য হিন্দু, হিন্দুস্তান টাইম্‌স ও অন্যান্য সংবাদ সংস্থার।

    দেশ দু'টোর কূটনৈতিক ও সহোযোগীতার সম্পর্কের ৬৫ বছরের উল্লেখ করে পুতিন বলেন, 'ভারতের সাথে বন্ধুত্ব ও সহোযোগীতা গভীরতর করা আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার পায়'। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং রাশিয়ার সাথে তাঁর দেশের সম্পর্ককে 'শক্তিশালী বন্ধুত্বের সম্পর্ক' উল্লেখ করে বলেন, 'আমরা রাশিয়ার সহযোগীতার প্রশংসা করি'।

    ভারতে সফর শুরুর আগে পুতিন ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুতে একটি প্রবন্ধ লিখেন। সেখানে তিনি মাল্টিপৌলার ওয়ার্ল্ড বা বহুমেরুর বিশ্বের প্রতি জোর দিয়ে ব্রিক্‌স (ব্রাসিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) এর কর্তৃত্ব প্রতি বছর বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন।

    মনমোহন ও পুতিন আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার, ইরানের উপর পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবরোধ, সিরিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধ ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা করেন। মনমোহন সিং বলেন, 'ভারত ও রাশিয়া উভয়েরই লক্ষ্য আফগানিস্তান একটি স্থিতিশীল, ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী হোক'।

    সাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তিনশো' কোটি ডলার ব্যয়ে ভারতের ৪২টি নতুন প্রজন্মের এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ও ৭১টি এমআই-১৭ ভি৫ হেলিকপ্টার ক্রয়। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর মোট এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা আগামী ৪ বছরের মধ্যে বেড়ে দাঁড়াবে ২৭২টি। ক্রয়কৃত ৭১টি হেলিকপ্টারের মধ্যে ৫৯টি দেয়া হবে ভারতীয় বিমান বাহিনীকে - বাকী ১২ টি পাবে প্যারামিলিট্যারি বাহিনী যা ব্যবহার করে তারা নক্সাল-বিদ্রোহীদের দমন করবে বলে জানিয়েছে।

    এছাড়াও, বিমানবাহী রণতরী 'বিক্রমাদিত্য' দ্রুত হস্তান্তরের জন্যও রাশিয়াকে অনুরোধ করে ভারত। উল্লেখ্যঃ এ-যানটি ২০০৮ সালে হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনও তা দিতে সক্ষম হয়নি রাশিয়া - নতুন আশ্বাস অনুসারে আগামী বছরের শেষ নাগাদ এটি ভারতে পৌঁছুবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত-রুশ সম্পর্কোন্নয়ন ও সামরিক চুক্তিগুলোকে আগামী বছর আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা সামরিক জোটের সেনা প্রত্যাহার, চীনের ক্রমান্বয়ে সামরিক বিশেষত নৌ-শক্তি বৃদ্ধি, বার্মায় ব্যাপক আকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তার, বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েনের আগ্রহ ইত্যাদি ঘটনাবলীর নিরিখে দেখতে হবে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন