• ফরাসী প্রেসিডেন্ট অলান্দের প্রতিশোধঃ এলিসি প্রাসাদে ক্যামেরোনের আগে মিলিব্যাণ্ড
    uk_france_hollande_cameron.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৪ জুলাই ২০১২, মঙ্গলবারঃ  নির্বাচন-পূর্ব এক প্রচারাভিযানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সমাজতান্ত্রিক ফ্রাসোঁয়া অলান্দ ব্রিটেইনে এলে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করেন রক্ষণশীল রাজনীতিক প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন। এবার প্রেসিডেন্ট হয়ে ক্যামেরোনের পূর্বেই তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যাণ্ডকে এলিসি প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অলান্দ, যাকে ডেইলি ইণ্ডিপেন্ডেন্ট 'সে-অপমানের প্রতিশোধ' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    ব্রিটেইনের রক্ষণশীল দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোন গত ফরাসী নির্বাচনে সমর্থন করেছিলেন সে-দেশের রক্ষণশীল প্রার্থী নিকোলাস সার্কোজিকে। কিন্তু নির্বাচনে পরাজিত হন সার্জোকি; বিজয়ী হন অলান্দ। প্রেসিডেন্ট হবার পর এ-মাসের শুরুর দিকে অলান্দ ব্রিটেইন সফর করে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর নির্বাচিত হওয়ার পর এখনও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্স সফর করেননি। মধ্য-বামপন্থী এড মিলিব্যাণ্ডই প্রথম কোন ব্রিটিশ রাজনীতিক যাকে অঁলাদ ফ্রান্সে নিমন্ত্রণ করলেন।

    অলান্দের সাথে মিলিব্যাণ্ড প্রায় আধ-ঘন্টাব্যাপী আলোচনা করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান যে, ইউরোপ জুড়ে তরুণ-বেকারত্ব, রাষ্ট্রীয় ব্যয় সঙ্কোচের অকার্যকারিতা ইত্যাদি বিষয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্টের সাথে তাঁর মতৈক্য হয়েছে। লেবার নেতা ঘোষণা করেন যে, নিখিল ইউরোপের জনমত ব্যয়-সঙ্কোচের বিরুদ্ধে ফলে অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধানে একটি 'নতুন উপায়' খুঁজে বের করতে হবে।

    জনমত যা-ই হোক, ইউরোপের অন্য বড়ো দুই শক্তি জার্মানী ও ব্রিটেইনের বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয়-ব্যয় সংকোচে দৃশ্যতঃ বদ্ধপরিকর। ব্রিটেইনের জোট-সরকার ইতোমধ্যেই ব্যাপক আকারে ব্যয় সংকোচ করেছে যার আওতায় পড়েছে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিশু-ভাতা, অবসর-ভাতা, বয়স্ক-সেবা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ খাত।

    ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্টও ছিলেন ব্যয়-সংকোচনের পক্ষে। কিন্তু অলাঁদ তাঁর নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুতিতে ব্যয় সংকোচনের 'গতি' কমানোর কথা বলে জনপ্রিয়তে পান। তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় অর্থনৈতিতে মার্কেল-সার্কোজি-ক্যামেরোনের ব্যয়-সংকোচমুখী নীতি চ্যালেইঞ্জের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ব্রিটেইনের আগামী নির্বাচনে মিলিব্যাণ্ড বিজয়ী হতে পারলে অলান্দ-মিলিব্যাণ্ড জোট হয়তো সে-নীতির স্রোত ঘুরিয়ে দিতে চাইবেন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন