• ফরাসী প্রেসিডেন্ট অলান্দে সিরীয় বিদ্রোহীদের সরকার গড়তে বললেনঃ তিনি স্বীকৃতি দেবেন
    Hollande-speech.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৭ অগাস্ট ২০১২, সোমবারঃ  ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলান্দে আজ প্যারিসে তাঁর প্রথম বার্ষিক পররাষ্ট্র-নীতি বিষয়ক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধবাদী শক্তি-সমূহকে পাল্টা সরকার গঠনের আহবান জানিয়ে বলেছেন যে, তিনি সে-সরকারকে বৈধতা দানের উদ্দেশ্যে স্বীকৃতি দেবেন।

    সিরিয়া বহিরাক্রমণের শিকার হলে আত্মরক্ষার্থে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে প্রেসিডেন্ট আসাদ ইতিপূর্বে যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, সে-পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটেইন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সিরিয়া আক্রমণের হুমকির প্রতিধ্বনি করে প্রেসিডেন্ট অলান্দে বলেন, আসাদ কর্তৃক রাসয়নিক অস্ত্রের ব্যবহার হবে সিরিয়াতে ফ্রান্স ও তার মিত্রদের প্রত্যক্ষ আক্রমণ হানার একটি বৈধ কারণ।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের শরিকদের সাথে মিলে আমরা খুব সতর্ক রয়েছি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ প্রসঙ্গে, যা হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সিরিয়ার উপর প্রত্যক্ষ আক্রমণ করার একটি বৈধ কারণ।’

    লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফিকে উৎখাত করার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন, বর্তমানে সমাজতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলান্দেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে গতিচ্যুত করার ক্ষেত্রেও একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে লিপ্ত আসাদ-বিরোধী শক্তিগুলোকে একত্রিত হয়ে একটি সরকার গঠনের আহবান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট অলান্দে বলেন, তিনি সে-সরকারের বৈধতার স্বীকৃতি দেবেন।

    অলান্দে বলেন, ‘সিরিয়ার বিরোধী-শক্তি সমূহকে একটি প্রতিনিধিত্বশীল ও সর্বজনীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য ফ্রান্স অনুরোধ করছে, যা নতুন সিরিয়ার বৈধ প্রতিনিধি হতে পারে।‘ তিনি বলেন, ‘গঠিত হলে ফ্রান্স এই অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বীকৃতি দেবে।’

    অলান্দের এই বক্তব্যকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা সিরিয়ার বিবদমান বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি ধাক্কা বলে মন্তব্য করে। অন্যদিকে লণ্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা অলান্দের বক্তব্যকে অন্যান্য পশ্চিমী দেশের চেয়ে পার্থক্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

    দ্য গার্ডিয়ান-এর মতে, ওয়াশিংটন ও লণ্ডন যেখানে সিরিয়ার অভ্যন্তরে থাকা বিদ্রোহীদের সাথে নিকটবর্তী থেকে তুরষ্ক-ভিত্তিক সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল-সহ বহির্গত বিরোধী দলগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রেখে করছে, ফ্রান্স সেখানে তাদেরকেই শক্ত সমর্থন যুগাচ্ছে। 

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন