• ফুটবল-ইতিহাসের 'কালো দিবস' মিসরেঃ খেলা-পরবর্তী সংঘর্ষে ৭৪ নিহত
    Egyptian-football-death.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১ ফেব্রুয়ারী ২০১২, বুধবারঃ মিসরের পৌর্ট সাইদে ফুটবল-মাঠে খেলা শেষে সংঘটিত সংঘর্ষে ১জন পুলিসের সদস্য-সহ অন্ততঃ ৭৪ জনের প্রানহানি ঘটেছে; আহত হয়েছেন কয়েকশত ব্যাক্তি। ফুটবল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিফা একে ক্রীড়াটির জন্য 'কালো-দিবস' বলে উল্লেখ করেছে। নতুন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে শহরটিতে সেনা মোতায়েরন করা হয়েছে।

    রাজধানী কায়রোর দল আল-আহলি ও পৌর্ট সাইদের দল আল-মাস্‌রির মধ্যে অনুষ্ঠিত এ-খেলায় স্থানীয় দল ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। রেফারীর শেষ বাঁশি বেজে ওঠার সাথে সাথে আল-মাস্‌রির দলে দলে সমর্থকরা মাঠে ঢুকে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের প্রতি পাথর, বোতল ও জ্বলন্ত আতশবাজি নিক্ষেপ করতে শুরু করেন।

    দেশটির সামরিক প্রশাসনের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ঘটনার পর-পরই খেলোয়াড় ও আহতদেরকে উদ্ধারে দু'টো সামরিক বিমান পাঠানো হয়েছে। সেনা-প্রশাসনের প্রধান ফীল্ড মার্শাল হুসেইন তানতাওয়ি দাবী করেছেন, '(মিসরের) নিরাপত্তা ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রয়েছে'। তবে, আজকের সংঘটিত অঘটনের পরিপ্রেক্ষিতে মিসরের প্রিমিয়ার লীগের ফুটবল খেলা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক নির্বাচনের জয়লাভের মধ্য দিয়ে মিসরের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি-রূপে আত্মপ্রকাশ করা ইসলামবাদী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড বলছে বিতাড়িত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সমর্থকেরা এর জন্য দায়ী।‌ বিষয়টির গভীরত্ব বিবেচনা করে আগামী কাল মিসরের পার্লামেন্টের একটি বিশেষ অধিবেশন আহবান করা হয়েছে।

    অহিংস গণ-অভ্যূত্থানের দেশ মিসরে কী-করে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এতো বিরাট সহিংস ঘটনা ঘটতে পারলো, তার মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দাবী রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, মিসরীয়দের গণ-আন্দোলনে গড়ে ওঠা প্রত্যাশার অপূর্ণতা জনমানসে যে গভীর হতাশার তৈরী করেছে, হয়তো তারই প্রকাশ পেয়ে থাকবে আজকের এই অঘটন।

    সাম্প্রতিক সময়ে মিসরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আজই কায়রোর একটি মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রধারীরা ডাকাত-দল হামলা চালায় - এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে যা পঞ্চম সশস্ত্র-ডাকাতির ঘটনা।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন