• ফৌন-হ্যাকিং কেলেঙ্কারীঃ প্রথমে গেলেন বড়োবাবু ও পরে ছোটোবাবু পুলিসের
    Police-Comm-AsstCom.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১৮ জুলাই ২০১১, সোমবারঃ  মিডিয়া টাইকুন রুপার্ট মারডকের সদ্য বন্ধ-করা নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড পত্রিকার পক্ষ থেকে সংবাদ তৈরীর উদগ্র চেষ্টায় ফৌন-হ্যাকিং করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেইনের রাজনৈতিক ও মিডিয়া জগত যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তখন প্রথমে মেট্রোপলিটান পুলিসের কমিশনার ও তারপর এ্যাসিস্ট্যান্ট কমশিনার এক দিনের ব্যবধানে পদত্যাগ করেছেন।

    স্যার পল স্টিফেনসন গতকাল রোববার পদত্যাগ করেছেন যে-ঘটনার কারণে, তা হচ্ছে ফৌন-হ্যাকিংয়েরর সন্দেহায়িত নিল ওয়ালিসের সাথে তার সম্পর্ক।

    নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড-এর প্রাক্তন ডেপুটি এডিটর যে-নিল ওয়ালিসকে ফৌন হ্যাকিংয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত ১৪ জুলাই গ্রেফতার করা হয়, স্যার পল স্টিফেনসন ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে গণ-সংযোগ পরামর্শকের দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

    অপরদিকে স্টিফেনসন বিনা মূল্যে লাভ করেছিলেন হার্টফৌর্ডশায়ের একটি বিলাসবহুল স্বাস্থ্য নিবাসে ১২,০০০ পাউন্ড মূল্যের আতিথ্য। যদিও স্বাস্থ্য নিবাসের মালিক স্টিফেন পার্ডেন হচ্ছেন স্যার পল স্টিফেনসনেরর বন্ধু, কিন্তু নিল ওয়ালেস এ-প্রতিষ্ঠানটিরও গণসংযোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।

    আজ সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা এসেছে মেট্রোপলিটান পুলিসের এ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জন ইয়েটসের কাছ থেকে। তার ঘটনা হচ্ছে যে, তিনি ২০০৯ সালে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেছিলেন, নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ডে ফৌন-হ্যাকিংয়ের অভিযোগের তদন্তের আর দরকার নেই।

    ফৌন-হ্যাকিং বিষয়ে সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে ১১,০০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সে-সময় ইয়েটস বলেছিলেন, ‘আমি হচ্ছি মেট্রোপলিটান পুলিসের এ্যাসিট্যান্ট কমিশনার, আমি বিনব্যাগে খোঁজাখুঁজি করতে যাচ্ছি না।’।

    কিন্তু নিল ওয়ালিসের গ্রেফতার-পরবর্তী বয়ান থেকে তার সাথে ইয়েটেসে বন্ধুত্বের বিষয়টি জনসমুখে প্রশ্নায়িত হওয়ায় বেকায়দায় পড়েন পুলিসের দ্বিতীয় অবস্থানের কর্তা জন ইয়েটস।

    নিল ওয়ালিসের সাথে জন ইয়েটসের বন্ধুত্বের সুবাদে তারা দুজনেই নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ডের খরচে রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছেন বলে জানা যায়। এ-ছাড়াও জন ইয়েটস নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ডের শেষ এডিটর কলিন মিলারের সাথেও ভোজ করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    নিউজ অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড তথা রুপার্ট মারডকের কর্মচারীদের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় প্রভাবের স্বরূপ কী তা ফৌন-হ্যাকিং কেলেঙ্কারীর তদন্ত ও গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসছে।

    প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোনের সাথে রুপার্ট মারডকের সখ্যতা ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোতে প্রশ্নায়িত হতে শুরু করেছে। বিশেষতঃ নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ডের এডিটর হিসেবে পদত্যাগ করা এ্যান্ডি কৌলসন ডেইভিড ক্যামেরোনের মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবার বিষয়টি তীব্র সমালোচিত হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, কৌলসন ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্য নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ডের এডিটর থাকা-কালে রাজ-পরিবারের সদস্যদের ফৌন-হ্যাকিংয়ের দায়ে গ্রেফতারিত ও চাকুরীচ্যুত হন পত্রিকাটির রয়্যাল এডিটর ক্লাইভ গুডম্যান ও প্রাইভেট গোয়েন্দা গ্লিন মালকেয়ার। এ-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে পত্রিকাটি থেকে পদত্যাগ করেন কৌলসন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোনের মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

    রোববারে পুলিস কর্তা স্যার পল স্টিফেনসনও নিজে পদত্যাগ-কালে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোনের হাতে কৌলসনের চাকুরী প্রাপ্তির বিষয়টিকে ভ্রুকুটি করেন।

    তিনি তার নিজের দেয়া ওয়ালিসের নিয়োগের সাথে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া কৌলসুনের নিয়োগের তুলনা করে দেখান যে, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড থেকে ফৌন-হ্যাকিংয়ের কেলেঙ্কারীতে পদত্যাগকারীকে চাকুরী দিয়েছিলেন, তিনি অন্ততঃ সেটি করেননি।

    এ-মুহূর্তে বিশেষ বাণিজ্য প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন দক্ষিণ আফ্রিকাতে সফরে রয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে তার অনুপস্থিতিটি তার নিজের দল থেকেই সমালোচিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন