• ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সারকোজি হারলে ইইউতে নিঃসঙ্গ হয়ে যাবেন জার্মান চ্যান্সেলার মার্কেল
    Sarkozy-Markel.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি- ২৭ এপ্রিল ২০১২, শুক্রবারঃ  ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্যোশালিস্ট প্রার্থী ফ্রাসোঁ অলান্দের কাছে রক্ষণশীল প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির পরাজয় হলে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে সবচেয়ে বড়ো বন্ধু হারাবেন রক্ষণশীল জার্মান চ্যান্সেলার এঞ্জেলা মার্কেল। শুক্রবার এমন ইঙ্গিত দিয়ে মার্কেল বলেছেন, ফ্রাসোঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটের কাঠামো পরিবর্তনের কোনো দরদস্তুরে তিনি ছাড় দেবেন না।

    এঞ্জেলা মার্কেল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৫টি দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রতি জোর সমর্থন জানিয়ে বলেন, এতে পরিবর্তন আনা যাবে না। ডব্লিউএজেড মিডিয়া গ্রুপকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘ইউরোপের অধিকাংশ দেশের পার্লামেন্ট এ-বাজেটকে গ্রহণ করার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে আয়ারল্যাণ্ডে এ-সংক্রান্ত গণভৌট অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। নতুন দরদস্তুরের মাধ্যমে এটিকে নবায়ন করা যাবে না।’

    এঞ্জেলা মার্কেলের এ-বক্তব্যের দ্রুত জবাব দিয়েছেন ফ্রাসোঁ অলান্দ। ফ্রান্সের একটি টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, ‘জার্মানী একা পুরো ইউরোপের সিদ্ধান্ত নেয় না।’ নির্বাচিত হলে ইউরোপীয় বাজেট সংক্রান্ত চুক্তিতে পরিবর্তন আনতে চাইবেন উল্লেখ করে অলান্দ বলেন, ‘বিদ্যমান ব্যয়-সঙ্কোচন পদপেগুলো খুবই নির্মম, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পুনরুদ্ধারকে ব্যাহত করবে।’

    বিজয়ী হলে এঞ্জেলা মার্কেলের উদ্যেশ্যে কী বলবেন প্রশ্নের উত্তরে অলান্দ বলেন, ‘আমি তাঁকে বলবো, ফ্রান্সের জনগণ তাদের পছন্দকে বেছে নিয়েছে, আর এর অর্থ হচ্ছে, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে আবারও সমঝোতায় বসা।’

    একই রকম এক প্রশ্নের উত্তরে এঞ্জেলা মার্কেল বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোন, তাঁর সাথেই তিনি কাজ করবেন। তবে নিকোলাস সারকোজির প্রতি সমর্থন জানিয়ে মার্কেল বলেন, তাঁরা দু’জনই একই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য এবং অর্থনৈতিক মন্দা চলা-কালে তাঁরা দু’জনেই ইউরোপের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন।

    উল্লেখ্য, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউণ্ড নির্বাচনে ক্ষমতাসীল রক্ষণশীল প্রার্থী নিকোলা সারকোজিকে পেছনে ফেলে সর্বাধিক ভৌট পেয়েছেন সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী ফ্রাসোঁ অলান্দ। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য আগামী মাসের ৬ তারিখের অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় রাউণ্ডের ভৌটে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবেন, তা নির্ভর করছে অন্যান্য দলের ভৌটারগণ কার পক্ষে তাঁদের সমর্থন দান করবেন।

    ইউকেবেঙ্গলির বিশ্লেষণ-মতে, ফ্রান্সে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দূর-দক্ষিণপন্থী ন্যশানাল ফ্রন্টের প্রার্থী লে পেন যে-উচ্চ হারের ভৌট পেয়েছেন, তা যদি শেষ পর্যন্ত ইমিগ্রেশন-বিরোধী নীতির সমর্থনের কারণে সারকোজির পক্ষে ঝুঁকে, তাহলে এবারের নির্বাচনেও ফ্রান্সে দক্ষিণপন্থার জয় হবে। তবে, ভৌটাররা যদি প্রধানতঃ সমাজের ধনী-দরিদ্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাড়া দেয়, তাহলে অনেক দক্ষিণপন্থী সাধারণ মানুষের ভৌট পেয়ে সমাজতন্ত্রী প্রার্থী ফ্রাসোঁ অলান্দ জয়ী হয়ে যেতে পারেন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন