• বনি ওয়ালিদে আবারও যুদ্ধ-পরাজয়ঃ লিবীয় বিদ্রোহী-শিবিরে ভাঙ্গন
    libya_nato_rebels_retreat_bani_walid.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১, মঙ্গলবারঃ  গত বৃহস্পতিবার থেকে বারংবার বনি ওয়ালিদ দখলের লড়াইয়ে পরাস্ত হয়ে পিছু হটার পর আজ মঙ্গলবার আরেক দফা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে ন্যাটো-সমর্থিত আল-কয়েদা-বিদ্রোহী যোদ্ধারা। আজকের লড়াইয়ে অন্ততঃ ৫ বিদ্রোহী নিহত ও ১৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক সংগঠন ন্যাশন্যাল ট্র্যানজিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি)।

    বনি ওয়ালিদের মূল জনগোষ্ঠী ওয়ারফালা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত - যাদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ওয়ারফালারা স্থানীয় রেডিওর মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে লিবিয়াকে রক্ষার অঙ্গিকার পূনর্ব্যাক্ত করেছে।

    এদিকে বিদ্রোহী-শিবিরে ভাঙ্গন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ত্রিপোলি পৌস্ট জানিয়েছে, ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নিজের মধ্যে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়ে অন্ততঃ ১২ জন বিদ্রোহী প্রাণ হারিয়েছেন। ন্যাটোর পরামর্শ-মতো এনটিসি তাদের কার্যক্রম দ্রুততার সাথে বেনগাজী থেকে ত্রিপোলিতে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করলেও আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট মিলিট্যারী কমান্ডারের বিরোধিতার কারণে এখন পর্যন্ত তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    স্ব-ঘোষিত ত্রিপোলি মিলিট্যারী কাউন্সিলের কমান্ডার আব্দেল আল-হাকিম বেলহাজ - যিনি আল-কায়েদার লিবীয় সংগঠন লিবিয়ান ইসলামিক ফাইটিং গ্রুপের (এলআইএফজি) প্রধান ছিলেন - সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ তিনি এনটিসির হাতে তুলে দেবেন না। তাঁর একজন উচ্চপদস্থ সহকারী ও মুখপাত্র সংবাদ-সংস্থাগুলোকে বলেছেন, '(এনটিসির প্রধান মাহমুদ) জিব্রিল কারও প্রতিনিধিত্ব করেন না। তিনি এখানে আকাঙ্খিত নন।' উল্লেখ্য, বেলহাজ আল-কায়েদার হয়ে আফগানিস্তান, সুদান ও ইরাকে লড়াই করেছেন এবং পরে সিআইএ'র হাতে ধৃত হয়েছিলেন।

    অন্যদিকে কাউন্সিল অফ মিসরাতার একজন উচ্চস্তরের সদস্য আব্দুল বাসিত আবু মুজাইরিক এনটিসি ও বেলহাজ উভয়ের নেতৃত্বকেই মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, 'আমরা যখন লড়াই করতে গিয়ে মৃত্যু-বরণ করছিলাম, (মাহমুদ) জিব্রিলকে তখন কোথাও দেখা যায়নি, আর এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছেন; তাঁকে সরিয়ে দেয়া হবে'। বেলহাজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'বেলহাজ কেবলমাত্র ত্রিপোলির যোদ্ধাদের দায়িত্বে আছেন, ব্যাস। লিবিয়া রাষ্ট্রের দায়ীত্বে তিনি নেই, যদি তিনি তেমনটা মনে করেও থাকেন'।

    পরিকল্পনা-মতো আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর ন্যাটোর সামরিক কার্যকলাপের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। এর পরেও যদি তারা লিবিয়াতে সামরিক-সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে চায়, তাহলে ন্যাটো-সদস্যদের ভৌটের মাধ্যমে সময়সীমা পুনরায় বাড়াতে হবে। ফলে স্বভাবতঃই ন্যাটো চাইবে বিশ্ববাসীর সামনে দেখাতে যে, 'ত্রিপোলিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে'। কিন্তু দৃশ্যতঃ এনটিসির পক্ষে ত্রিপোলিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আশা এখনও বাস্তব-সম্মত নয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন