• বনি ওয়ালিদে ন্যাটোর ব্যর্থ প্যারাশুট অবতরণঃ লিবীয় বাহিনীর হাতে ১৭ গ্রেফতারিত
    libya_bani_walid.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২১ সেপ্টেম্বর ২০০১, বুধবারঃ  বনি ওয়ালিদে সপ্তাহ-কাল যাবত ন্যাটো ও আল-কায়েদা বিদ্রোহীদের অব্যাহত যৌথ-আক্রমণ রুখে দিয়ে প্রতি-আক্রমণ চালিয়েছে লিবীয় বাহিনী। লিবিয়ার সরকারের মুখপাত্র ডঃ মুসা ইব্রাহিম সিরিয়া-ভিত্তিক একটি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, বনি ওয়ালিদে যুদ্ধ-কালে লিবীয়রা বিদেশী ১৭ সেনাকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃত বিদেশী সেনাদের মধ্যে ২ জন ব্রিটিশ, ১ জন কাতারী, ১ জন এশিয়ার অন্য একটি দেশের ও বাকীরা সকলে ফ্রান্সের নাগরিক।
    যথারীতি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিদেশ-মন্ত্রণালয় এ-বিষয়ে তাদের অজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। ফ্রান্সের বিদেশ-মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের কাছে এ-ধরণের কোনো তথ্য নেই। আর ব্রিটেইনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা প্রকাশিত রিপৌর্টের ব্যাপারে অবগত আছেন যদিও তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতও করেননি কিংবা অস্বীকারও করেননি। কাতার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    বিগত কয়েকদিন ধরে গুজব চলছিল যে, বিদ্রোহীরা আল-কায়েদা যোদ্ধারা বারংবার পরাস্ত হওয়ার কারণে ন্যাটোর সৈন্য প্যারাশুটে করে বনি ওয়ালিদ ও সিরতে অবতরণ করেছে। জাতিসংঘের রেজ্যুলুশন ১৯৭৩ - যার ক্ষমতাবলে ন্যাটো লিবিয়ায় বিমান-আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে - সেখানে স্পস্ট নিষেধাজ্ঞা আছে স্থল-সেনা পাঠানোর। অর্থাৎ লিবিয়া আক্রমণে ন্যাটো আবারও জাতিসঙ্ঘের রেজ্যুলুশন ভঙ্গ করলো। এর আগেও ফ্রান্স ও কাতার অন্য আরেকটি রেজ্যুলুশন ১৯৭০, যার দ্বারা লিবিয়ার উপরে অস্ত্র-নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো, তা ভঙ্গ করে আল-কায়েদা বিদ্রোহীদেরকে অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠিয়েছিলো। এছাড়াও, ত্রিপোলি আক্রমণে আমেরিকান, ব্রিটিশ, ফরাসী ও কাতারী স্থল-সেনারা রেজ্যুলুশন ১৯৭৩ ভঙ্গ করে স্থল-যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলো।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ন্যাটো অনবরত বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে বনি ওয়ালিদ, সিরত ও সাবাহ শহরের উপরে। এ-শহরগুলোর অধিবাসীরা ন্যাটো ও আল-কায়েদা বিদ্রোহীদের হাতে মাতৃভূমি সমর্পণ না করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প জানিয়েছে। গত কয়েকদিনের যুদ্ধে কয়েকশো বিদ্রোহীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা মূলধারার পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যম, যারা দৃশ্যতঃ ন্যাটো ও বিদ্রোহীদের পক্ষাবলম্বন করছে, তারাও স্বীকার করেছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন