• বন্দী সাইফ গাদ্দাফির বিচার শুরু লিবিয়ায়ঃ আন্তর্জাতিক আদালতও চায় বিচার করতে
    libya_saif_gaddafi.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ  লিবিয়ার হত্যায়িত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-গাদ্দাফির বিচার-কার্য শুরু করেছে ত্রিপোলিতে ক্ষমতাসীন সরকারের একটি আদালত। সন্দেহিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্দেশ্যে তাঁকে নিজেদের হাতে পেতে চায় আন্তর্জাতিক আদালত।

    সাইফের বিচারে ত্রিপোলিতে আদালত বসলেও সেখানে তিনি যেতে পারেননি, কারণ তিনি এখনও বন্দী হয়ে রয়েছেন জিনতানের একটি গোত্রের হাতে, যারা তাঁর পিতার বিরুদ্ধে শসস্ত্র বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিলো। জিনতানেও একটি আদালত বসেছে সাইফের বিচারে, যেখানে তাঁকে আজ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেখা গিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ন্যাটোর বিমান হামলায় সরকারের সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করা ইসলামবাদী বিদ্রোহীরা। গাদ্দাফি ও তাঁর পুত্র মোতাসসিমকে বিনা-বিচারে হত্যা করা হয়। পশ্চিমা শক্তিগুলোর ছত্রছায়ায় একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গোত্র-বিভক্ত দেশটি ব্যাপকভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে রয়েছে।

    প্রসিকিউটর জেনারেল আন্দুলকাদের রাদওয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাইফকে জিনতান থেকে ত্রিপোলিতে আনয়নের আদেশ পাঠানো হয়েছে। তাঁকে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও রাজধানীতে আনার ব্যাপারে ত্রিপোলির সরকারের সাথে জিনতানের নেতাদের আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন রফা না হওয়ার আদালতে হাজির করা যায়নি সাইফকে।

    বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাগদাদী আল-মাহমুদি ও গোয়েন্দা প্রধান আব্দুল্লাহ আল-সেনুসিকেও। তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হচ্ছে ২০১১ সালের বিদ্রোহের সময় হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটন। 

    এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বলছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সাইফ ও সেনুসির বিচার করতে চায় তারা। তাদের বক্তব্যের সমর্থনে মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইণ্টারন্যাশনাল অনুরোধ করেছে এ-দুজনকে আইসিসির হাতে তুলে দিতে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ত্রিপোলি কর্তৃপক্ষের ন্যায়-বিচার নিশ্চিত করার সক্ষমতার ব্যাপারে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। ত্রিপোলির বিচার উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্তৃত্বের অস্বীকার হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন