• বহুজাতিক কোম্পানীর কাছে বাংলাদেশের এনার্জীঃ অসম চুক্তির বিরুদ্ধে হরতাল
    anu_mohammad_arrested.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ৩ জুন ২০১১, রোববারঃ বাংলাদেশের খনিজ জ্বালানীর উৎপাদন ও বিতরণের অধিকার বহুজাতিক কোম্পানীর কাছে হস্তান্তরের জন্য সম্পাদিত চুক্তিকে ‘দেশ ও জনগণের জন্য সর্বনাশা’ দাবী করে সরকারের বিরুদ্ধ আজ রোবরবার রাজধানী ঢাকায় পূর্ব-ঘোষিত হরতাল পালনে নেমেছে আন্দোলনের সাধারণ সংগঠন ‘তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটী।’

    মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানী কনকো ফিলিপসের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দেশটির বৃহত্তম দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর সমর্থন-পুষ্ট জাতীয় কমিটী’র ডাকা হরতালকে সরকার দৃশ্যতঃ শক্ত হাতে দমন করার চেষ্টা করছে।

    ঢাকা থেকে পাঠনো খবরে (লন্ডন সময় রাত ৩টা) জানা যায়, আন্দোলনের অন্যতম নেতা অধ্যাপক আনু মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এ-হরতালকে রোখার জন্য ভোর থেকেই পুলিস তৎপর হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) অফিস পুলিস ঘেরাও করে রেখেছে বলে সংবাদ এসেছে ইউকেবেঙ্গলির কাছে।

    বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে তার অন্ততঃ ২০ সাথী-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে পল্টন এলাকা থেকে।

    আরও আটক করা হয়েছে গণ সংহতি’র প্রধান জুনায়েদ সাকীকে।

    গ্রেফতার হচ্ছে বলে খবর আসছে, কিন্তু ইউকেবেঙ্গলি তাদের বিস্তারিত বিবরণ জানার অপেক্ষায় আছে।

    যে দাবীগুলো প্রচারিত করে জাতীয় কমিটী হরতাল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তার মধ্য রয়েছেঃ

    - কনকো ফিলিপসের সাথে চুক্তি বাতিল করা;
    - গ্যাস ও কয়লা-সহ খনিজ সম্পদ রফতানি নিষিদ্ধ করে আইন তৈরী ও বাস্তবায়ন করা;
    - দেশের বিদ্যুত শিল্পায়নের কাজে লাগানো; তরুণ প্রজন্মের দেশীয় বিশেষজ্ঞদের দিয়ে দক্ষ শক্তি সংস্থা গড়ে তোলা;
    - বিদেশের সাথে সকল চুক্তি প্রকাশ করা;
    - ইতিপূর্বে চুক্তি পেয়ে বাংলাদেশের ক্ষতি-করা বহুজাতিক মার্কিন শেভরন ও কানাডীয় নাইকো’র কাছ থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করা;
    - জ্বালানী মন্ত্রণালয়কে বহুজাতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কমিশন-নেয়া কর্মকর্তাদের শাস্তি দেয়া।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি কানাডার একটি আদালত বাংলাদেশের মন্ত্রীকে ঘুষ দেবার অপরাধে নাইকোকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করেছে।

    সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, বাসদের কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে থেকে ভোরেই দলটির কেন্দ্রীয় কমিটীর সদস্য রাজেকুজ্জামান রতনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।

    সর্বশেষ আপডেইটঃ লন্ডন সময় ৩রা জুলাই ২০১১ সকাল ৫টা ১০ মিনিট

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

সংবিধানে যেমন তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে তেমনি "হরতাল" কেও বাতিল করা উচিত। হরতাল বিষয়ে সংবিধানে একটা এ্যামেনডমেনট আনা জরুরী ছিল।
হরতাল কিভাবে একটা গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করার আমার সেটা বোধগম্য নয়। হরতাল কি দিয়েছে আমাদের?
দুটি রাজনৈতিক দলের ফায়দা ছাড়া আর কিছুই না। সাধারন মানুষ শুধু অবর্ণনীয় কষ্টের শিকায় হয় এই হরতালে।

বহুদিন পর দেশের স্বার্থে একটা সত্যিকারের হরতাল হলো। পুলিশী নির্যাতনের হুমকির মুখেও মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিয়েছে! তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির আন্দোলন সফল হোক। কনকোফিলিপসের সাথে করা গোপন চুক্তি বাতিল করা হোক।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন