• বাংলাদেশীকে উলঙ্গ করে ভারতীয় বাহিনীর নির্যাতনঃ ‘দিল্লি দেখছে পাকিস্তানী হাত’
    BSF1.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৯ জানুয়ারী ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ  গত শনিবার বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে ভারতীয় বাংলার মুর্শিদাবাদের রানিনগরে পাচারকারী বলে ধৃত বাংলাদেশী যুবককে নগ্ন করে হাত-পা বাঁশের সাথে বেঁধে অমানবিক ভাবে পিটিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একদল জোয়ান, যার ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটের কয়েকটি ওয়েবসাইটে এবং ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হয়েছে, তবে ভারতীয় গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন এর পেছনে পাকিস্তানের হাত থাকতে পারে।

    ভারতীয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার তার প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানায়, গত শনিবার সকাল দশটার দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে যাবার কালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের জোয়ানরা হাবু শেখ নামের এক বাংলাদেশী পাচারকারীকে পাকড়াও শরীর থেকে কাপড় খুলিয়ে বাঁশের লাঠির সাথে তাঁর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। বাংলাদেশী ইংরেজী দৈনিক নিউ এইজ জানায়, বিএসএফ-সদস্যদেরকে ঘুষ দিতে না পারার কারণে এ-অত্যাচার করা হয় তাঁর উপর। ভারতীয় মেইল অন লাইন ইণ্ডিয়া জানায়, লোকটি নাম সেলিম শেখ এবং সে একজন গবাদিপশুর চোরাকারবারী।

    মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে আফগান ও ইরাকী বন্দীদের নির্যতনের ছবির মতোই ভারতীয় রক্ষীদের হাতে বাংলাদেশী কথিত পাচারকারীর নির্যাতনের দৃশ্যটির ছবি তোলা হয় এবং তা ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়। এ-ঘটনায় ভারতীয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মনক্ষুন্ন হন এবং রাজ্যের পুলিশের ডিজিকে রাজ্যসরকারের অসন্তোষের কথা বিএসএফের আইজিকে জানাবার নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে ৮ জোয়ানকে সাসপেণ্ড করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    এদিকে বাংলাদেশও এর প্রতিবাদ করেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকায়। নিউ এইজ জানায়, ঢাকায় এক সেমিনার শেষের অবকাশে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, ‘আমরা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছি।’ দেশের বিরোধী দল বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফকরুল বলেছেন, সরকারের পরনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতির ফলেই সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় রক্ষীদের হাতে বাংলাদেশীদের নির্যাতিত ও প্রাণ হারাতে হয়।

    আজ আনন্দবাজার পত্রিকায় দিল্লি থেকে প্রেমাংশু চৌধুরী লিখেছেন, দিল্লি মনে করে এ-ঘটনার মধ্যে পাকিস্তানী ও মৌলবাদীদের হাত রয়েছে। তিনি প্রহারকারীদের বিএসএফের সদস্য না বলে 'বিএসএফের উর্দি-পরা' বলে বর্ণনা করেন। ভারতের অভ্যন্তরে ইসলামী মৌলবাদীরা এ-কাজটি করিয়ে ছবি তুলে ইন্টারনেটে প্রকাশ করে মূলতঃ তারা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় বলে প্রতিবেদনে দাবী করা হয়। 

    আগামী শনিবার ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিতের সাথে পেট্রোপোল সীমান্তে মিলিত হবে বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনায়। আনন্দবাজারের রিপৌর্টে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে, মৌলবাদীরা ঐ প্রয়াসকে নষ্ট করার জন্য এ-কাজ করিয়ে থাকবে। রিপৌর্টে বলা হয়, ‘কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রশ্ন, পাচারকারী ধরা পড়লেও আগে কি তাদের মারধরের ছবি এ ভাবে প্রচার করা হয়েছে?’

    ইউকেবেঙ্গলি লক্ষ্য করে,  কথিত ভারতীয় গোয়েন্দা রিপৌর্টের প্রশ্ন হচ্ছে আগেও মারধরের ছবি প্রচার করা হয়েছে কি না - অর্থাৎ, ধরার পর মার স্বাভাবিক কিন্ত ছবির প্রচারটা অস্বাভাবিক। প্রতিবেদনে বলা হয়, 'গোয়েন্দারা মনে করছেন, প্রলোভন দেখিয়ে বিএসএফের নিচুতলার কর্মীদের দিয়ে এই কাজ করানো হতে পারে। ও এলাকায় মৌলবাদী শক্তির প্রভাব রয়েছে।' এদিকে, বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের একটি সেনা-ষড়যন্ত্র নসাৎ করে দিয়েছে বলে সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ডেকে দাবী করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন