• বাংলাদেশের তিতাসে নতুন গ্যাসের সন্ধানঃ মধ্য-এশিয়ার পাইপলাইনে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্খা
    turkmenistan_tapi_pipeline.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ অক্টোবর ২০১২, সোমবারঃ  বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় খনিজ আহরণকারী সংস্থা বাপেক্স আজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে দেশটির তিতাস গ্যাস-ক্ষেত্রে আরও নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। নব-আবিষ্কৃত গ্যাস-সহ তিতাসে গ্যাসের মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এখন ১০ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ফীট)-এরও বেশি।

    এ-গ্যাস হিসেবে নেয়ার পর তিতাসকে এখন বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাস-ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মনসুর হোসেন অবশ্য দাবি করেছেন যে, তিতাস কেবল বাংলাদেশ নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে 'বৃহত্তম স্থল-গ্যাস-ক্ষেত্র'।

    এদিকে তুর্কেমিনেস্তান থেকে শুরু হয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত প্রস্তাবিত 'টাপি' গ্যাস-পাইপলাইনের অংশ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তুর্কেমেনিস্তানের ভারপ্রাপ্ত তেল, গ্যাস ও খনিজ মন্ত্রী কাকাজেল্ডি আব্দুল্লায়েভ পেট্রৌটেক ২০১২ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যে, বাংলাদেশ চার-জাতির এ-পাইপলাইন প্রকল্পে অংশ নিতে প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালে অংশীদার চার-রাষ্ট্র তা বিবেচনা করে দেখবে'।

    ভারতের ইংরেজি পত্রিকা দ্য হিন্দু লিখেছে যে, পাইপলাইনে প্রবাহিত গ্যাসের দামের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে আব্দুল্লায়েভ নির্দিষ্ট দর উল্লেখ করতে অস্বীকার করে 'তা সবার জন্য উপকারী' হবে বলে মন্তব্য করেছেন'। লক্ষ্যণীয়ঃ বাংলাদেশে 'বহুল প্রচারিত' বলে দাবিদার সংবাদ-মাধ্যমগুলোর কোনটিতে এ-সম্পর্কিত কোনো প্রতিবেদন এখনও ইউকেবেঙ্গলির গোচরে আসেনি।

    সোভিয়েত ইউনিয়ন বিভক্ত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কাস্পিয়ান অঞ্চলের বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস-ভাণ্ডার রাশিয়াকে এড়িয়ে ইউরোপীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের হাজির করার চেষ্টা করে আসছে। অংশগ্রহণকারী চার দেশের অদ্যাক্ষর নিয়ে TAPI নাম ধারণ করা ১৬৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের এ-প্রকল্পটি শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। আফগানিস্তানের তৎকালীন ইসলামবাদী রাষ্ট্র-পরিচালক তালেবানের সাথে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ওক্‌লে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    কিন্তু ১৯৯৮ সালে তাঞ্জানিয়া ও কেনিয়ার মার্কিন দূতাবাসে বোমা-হামলায় তালেবানদের সন্দেহিত সমর্থনের কারণে সে-আলোচনা ভেঙ্গে পড়ে। পরবর্তীতে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর নতুন করে এ-সম্পর্তিক চুক্তি সাক্ষরিত হয়। এসিয়ান ডিভালাপমেন্ট ব্যাঙ্ক এ-মুহূর্তে টাপির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছে। এ-গ্যাস-লাইন প্রকল্পটিকে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ বছর ধরে চলা হামলার শুরু হবার সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করে থাকেন।

     

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

পাইপলাইনে কইরা কি বাংলাদেশের গ্যাস ইন্ডিয়া আর পাকিস্তানে পাঠাইবো নাকি? একবার না রোল উঠছিল বাংলাদেশ গ্যাসের উপরে ভাসতাছে, এক্সপোর্ট কইরা মিডেল ইনকামের দেশ হওন কোন ব্যাপারই না। এখন দেখা যাইতাছে গ্যাস-তেল কিছুই নাই, পুরা হায় হায় অবস্থা। এখন আবার পাইপলাইনে যাইতে চায় কেনু কেনু কেনু? গ্যাস কি দিবো না নিবো? পুত্তুম আলু কেনু এগিলি নিয়া মতিবেদন করে না?

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন