• বাংলাদেশের পতিত একনায়ক এরশাদের ভারত সফরঃ টিপাই ও তিস্তা নিয়ে আলোচনা
    india_bd_ershad_in_india_mammohan.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ অগাস্ট ২০১২ বুধবারঃ  বাংলাদেশের এক সময়ের স্বৈরশাসক অবসরী লেঃ জেঃ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশটির সরকারের প্রতিনিধি হয়ে এ-মুহূর্তে ভারত সফর করছেন। আজ তিনি সে-দেশের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী ১৭ তারিখে তিনি ভারতের নব-নির্বাচিত ও ইতিহাসে প্রথম বাঙালী প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জীর সাথে বৈঠক করবেন।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, 'বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে চলমান যোগাযোগের অংশ হিসেবে' এরশাদ ভারতে এসেছেন। তিনি আরও জানান যে, এরশাদ ১৫-১৬ তারিখ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে আজমীর সফর করবেন।

    কেন্দ্রীয় দিল্লিতে মনমোহনের সরকারি বাসভবনে প্রায় আধ-ঘন্টার বৈঠক শেষে এরশাদ জানান যে, দ্বি-পাক্ষিক অনেক প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তার পানি-বন্টন চুক্তি, টিপাইমুখে জলবিদ্যুত বাঁধ, ছিটমহল বিনিময় ইত্যাদি। এরশাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, তিস্তার পানির শতকরা ৫০ ভাগের মতো বাংলাদেশ পেতে পারে। তিনি বলেন, '৫০ ভাগ পাওয়া যাক আর কমই পাওয়া যাক, স্থায়ী সমাধানটাই এখন জরুরি'।

    টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে তিনি জানান যে, বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু ভারত করেবে না বলে তাঁকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্যঃ ভারত ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, উল্লিখিত ঐ বাঁধ হলে, বাংলাদেশের উত্তর-পুর্বাঞ্চলীয় প্রধান নদী-ব্যবস্থা ব্যাহত হবে এবং এর ফলে অর্থনৈতিক ও পরিবেশিক মারাত্মক ক্ষতি হবে।

    ১৯৮১ সালে ঘাতকের হাতে পূর্বতন সেনা-শাসক ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮২ সালে এরশাদ বাংলাদেশে সামরিক শাসন জারি করে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। পরের বছর ডিসেম্বরে নিজেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে উন্নিত করেন। ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। বাংলাদেশের বড়ো দুই রাজনৈতিক দল সে-আন্দোলনের শুরুতে না থাকলেও পরবর্তীতে যোগ দেয়।

    রাষ্ট্র-ক্ষমতা থেকে পতনের ১৮ বছর পর নিজের রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি নিয়ে এক-সময়ের রাজনৈতিক শত্রু  আওয়ামী লিগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নামক রাজনৈতিক জোটে যোগ দেন এরশাদ। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মহাজোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।

    এরশাদের শেষ ভারত সফর ছিল ২০১০ সালে। সে-বার তিনি দেশটির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সুবর্ণ-জয়ন্তীতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি '৭০-এর দশকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন