• বাংলাদেশের বিচারপতির মামলা খারিজ ব্রিটিশ আদালতেঃ বিবাদীদের আইনী-ব্যয় বহনের নির্দেশ
    IMG_8617.JPG

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৪ অক্টোবর ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ ব্রিটেইনের ৩৭ জন সংবাদ ও রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সুপ্রিম কৌর্টের বিচারপতি ব্রিটিশ নাগরিক শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের দায়ের করা মানহানির মামলা খারিজ করে দিয়েছে ব্রিটিশ হাইকৌর্ট। গত মঙ্গলবার লণ্ডনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিবাদীদের পক্ষে সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ এমাদুল হক চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এ-তথ্য জানান।

    গত ২রা অক্টোবর হাইকৌর্টের কুইন্স বেঞ্চ ডিভিশনের বিচারপতি জাস্টিস ডিংম্যান্স ফরিয়াদি আইনজীবীর দ্বিতীয়বারের মতো করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। একই সাথে তিনি বিবাদী পক্ষের আইনী ব্যয় পরিশোধেরও আদেশ দিয়েছেন ফরিয়াদিকে।

    এ-রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে ইউকেবেঙ্গলি.কমের পক্ষ থেকে বিচারপতি মানিকের সাথে টেলিফৌনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতার কথা জানান। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "মিডিয়ার সাথে কথা বলতে আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে তো, জাজ হিসেবে।"

    বিবাদীদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ এমাদুল হক চৌধুরী বলেন, "আমরা কোনো ভয়-ভীতির কাছে, হুমকীর কাছে মাথা নত করিনি। আদালতে [মামলার] যে ফলাফল এসেছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।"

    ২০১১ সালে লণ্ডনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র পক্ষ থেকে আহবান করা এক সংবাদ সম্মেলনে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। সে-সম্মেলনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিবেদন ছাপানোর সূত্র ধরে যুক্তরাজ্য বিএনপি'র দু'জন নেতা ও ৫টি বাংলা পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিক ও লেখকসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে ৫০,০০০ পাউণ্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করেন বিচারপতি মানিক।

    এমন কয়েকজন ব্যক্তিকেও এ-মামলায় অন্তর্ভূক্ত করা হয় যাঁরা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কণ্টেণ্ট বা বিষয়বস্তুর জন্য আইনতঃ দায়ী নন। এছাড়াও ফরিয়াদির আইনজীবীর পক্ষে থেকে বিবাদীদের কাছে প্রাথমিক আইনী-চিঠি পাঠানোতেও নির্ধারিত আইনী প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলে জানানো হয়েছে মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সুজান আসলান।

    কয়েকটি বিবাদী পত্রিকার সাথে বিচারপতি মানিকের ইতোমধ্যেই সমঝোতা হয়ে গিয়েছিলো। এবার হাইকৌর্টের চূড়ান্ত রায়ের মধ্য দিয়ে এ-মামলার আইনী লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটলো।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন