• বাংলাদেশের রাজধানীতে অনিদির্ষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধঃ খোদ আওয়ামী লীগেই ক্ষোভ
    bd_home_minister_mk_alamgeer.gif

    ইউকেবেঙ্গলি - ২০ মে ২০১৩, সোমবারঃ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। খোদ ক্ষমতাসীন দলের একজন জেষ্ঠ নেতা এ-সিদ্ধান্তকে 'স্বৈরতান্ত্রিক' আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইণ্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ করতে 'বিশেষ' প্রযুক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী। 

    বিগত কয়েক সপ্তা যাবত বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র পক্ষ থেকে, 'সরকার সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে' বলে অভিযোগ করা হচ্ছিলো। কয়েক দফায় দলটির পরিকল্পিত একটি সমাবেশের অনুমতি বাতিল করা হয়। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর চট্টগ্রামে এক-সভায় এর সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'যারা সভা-সমাবেশের নামে গাড়ী ভাংচুর করে, তাদেরকে বা অন্য কোন দলকে একমাস সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না'। তবে বিবিসে দেয়া এক সাক্ষাতকারের তিনি পরোক্ষভাবে জানিয়েছেন যে, এ-নিষিদ্ধি শুধুমাত্র এক মাসের জন্য নয়। তাঁর বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, যতোদিন পর্যন্ত (সমাবেশকারীরা) দেশের আইন মান্য করার চেতনা না দেখায় ততোদিন এ-ব্যবস্থা চলবে।

    গতকালই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরফুল ইসলাম। পরবর্তীতে রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের স্পষ্টীকরণ' শিরোনামে এক তথ্য-বিবরণীর মাধ্যমে জানানো হয়, ঘূর্ণিঘড় পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজধানীতে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে এ-সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে তাতে এ-ও বলা হয় যে, 'সাধারণ সমাবেশ করার ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই'।

    তবে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধিতে খুশি নন আওয়ামী লীগের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বিডিনিউজ টোয়েণ্টিফোর ডট কমকে বলেন, 'আমি মনে করি রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। সভা-সমাবেশ বন্ধ করে এ-সমস্যার সমাধান হবে না'। দলটির অনেক নেতাই প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না, তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও অনেকে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।

    বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকারের এ-সিদ্ধান্তে নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিভিন্ন দল, বিরোধী আঠারো দলীয় জোট, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রণ্ট ইত্যাদি সংগঠন।

    উল্লেখ্য, গত ৫ মে ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম নামের একটি ইসলামবাদী সংগঠনের বিরাট আকারের সমাবেশের পর সরকার শহরটিতে আর কোন সমাবেশের অনুমতি দেয়নি।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন