• বাংলাদেশের স্বাধীনতা-বিরোধী আল-বদর নেতা মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড
    bangladesh_ict_verdict_mueenuddin_ashfaruzzaman.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৪ নভেম্বর ২০১৩, সোমবারঃ  বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ-কালে সঙ্ঘটিত মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষ আদালত ব্রিটিশ নাগরিক চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও মার্কিন নাগরিক আশরাফুজ্জামান খানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। যুদ্ধ-চলাকালে দখলদার পাকিস্তানী সেনাদের সাহায্যার্থে গঠিত মিলিশিয়া আল-বদরের এ-দুই নেতাই বিদেশে থাকায় তাদের অনুপস্থিতে বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ইণ্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-২ আদালত এ-রায় প্রদান করে, যা এ-মামলার নবম রায়। রায়ে বলা হয়, "আমরা ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই মত দিচ্ছি, আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ না দিলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।" আসামীর অনুপস্থিতিতে প্রকাশিত এটি দ্বিতীয় রায় - প্রথমটি ছিলো আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে দেয়া রায় যাতে তাকেও ফাঁসি দণ্ড দেয়া হয়েছিলো।

    ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকাকে কেন্দ্র করে ফরিয়াদি পক্ষের আনা মোট ১১টি অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানায় আদালত। রায়ের মাধ্যমে বিচারক জানান, "আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৮ জন বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত ছিলেন, তা প্রসিকিউশনের তথ্য-প্রমাণে বেরিয়ে এসেছে। তারা কখনো নিজেরা হত্যায় অংশ নিয়েছে। কখনো জোরালো সমর্থন দিয়েছে, উৎসাহ যুগিয়েছে।"

    ব্রিটেইনের লণ্ডন নিবাসী চৌধুরী মুঈনুদ্দীন এখনও কোন মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান একে 'প্রহসনের বিচার' বলে আখ্যায়িত করেছেন। মুঈনুদ্দীনকে আদালতে হাজির হতে বলা হলে গত মে মাসে তাঁর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে সকল দোষ অস্বীকার করেন।

    রায় কার্যকর করতে বাংলাদেশের আদালত পুলিস ও প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে যে-দেশে মৃত্যুদণ্ড প্রচলিত রয়েছে সেখানে বিচারের সম্মুখীন হতে ব্রিটিশ নাগরিককে পাঠায় না ব্রিটেইন। ফলে চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি দেয়া কার্যতঃ প্রায় অসম্ভব। মুঈনুদ্দীনকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রত্যার্পণের অনুরোধ করেছে কি-না সে-প্রসঙ্গে ব্রিটেইনের স্বদেশ মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র দৈনিক গার্ডিয়ানকে বলেছেন, "প্রত্যার্পণ-অনুরোধ পেয়েছি কি-না তা আমরা নিশ্চিতও করি না অস্বীকারও করি না যতোক্ষণ না পর্যন্ত সে-ব্যাক্তি গ্রেফতারিত হচ্ছেন।"

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন