• বাংলাদেশে অবৈধ টাকা বৈধকরণঃ প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করলেন অর্থমন্ত্রীকে
    PM_Muhith1.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ২৯ জুন ২০১১, বুধবারঃ  বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের চাপে-নত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের নিজ-দলীয় অর্থমন্ত্রী আবুল-মাল মুহিতকে অর্থবানদের অবৈধ অর্থ বৈধ করার অনুরোধ করেছেন এবং মুহিত তা রক্ষা করবেন বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন দেশটির পার্লামেন্টে বাজেট পাস করার পূর্ব-মুহূর্তে।

    বাংলাদেশের সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা গত রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতে মিলিতে হয়ে তাদের অবৈধ টাকা বৈধকরণের সুযোগ করে দেবার অনুরোধ জানান।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অবৈধ টাকাকে কথ্য ভাষায় ‘কালো-টাকা’ বলা হলেও, সরকারী আলোচনায় সাধু-শ্রুতির জন্য ‘অপ্রদর্শিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দেশটিতে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ব্যবসায়ীরা তাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বৈধকরণের জন্য তার আগেও কয়েকবার সরকারের উপর চাপ দিয়ে সফল হয়েছেন।

    ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম বাজেটে তথাকথিত ‘অপ্রদর্শিত’ অর্থ বৈধ করার জন্য চারটি খাতে সুযোগ দেয়া হয়। চলতি বছরে সে-সুযোগ না থাকায়, এবার ব্যবসায়ী মহল জোট বেঁধে তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে শেখ হাসিনাকে তাদের পক্ষে রাজী করাতে সমর্থ হন।

    শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন বলেন, ‘১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার যাতে সুযোগ দেওয়া হয়, সেজন্য আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি।’

    অর্থমন্ত্রী মুহিত তার ভাষণে বলেন, ‘অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ দিলেও খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায় না। তারপরও বিভিন্ন মহলের দাবীর কারণে এবং পরিস্থিতির বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’

    বাংলাদেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক প্রোফেসার এম এ তাসলিম গতকাল বিডিনিউজ টুয়ান্টি ফৌরে প্রকাশিত তার একটি নিবন্ধে দাবী করেন, বাংলাদেশে অবৈধ টাকার বিষয়ে একটি ভুল ধারণা হলো, এ-টাকা বুঝি-বা কোনো গর্তে বা বিছানার নিচে লুকানো, আর এর বৈধকরণ বুঝি-বা একে বাজারে খাটার অনুমতি দেয়া। তার মতে, এ-ধারণা ভুল। তিনি বলেন, এ-অর্থ বাজারে খাটছে কিন্তু এর মালিকেরা সরকারকে তার প্রাপ্য কর দিচ্ছে না বলেই তা অপরাধ-মূলক ও অবৈধ।

    প্রোফেসার তাসলিমের মতে, বার-বার এ-অবৈধ অর্থ বৈধকরার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশে কর ফাঁকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত পার পেয়ে যাওয়া উৎসাহিত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

    মঙ্গলবারে পাস-হওয়া বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে প্রস্তাবিত রফতানী করও ৫০% ভাগেরও বেশি কমানো হয়। প্রস্তাবিত রফতানী কর ১.৫% এর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী পোশাক শিল্পে ০.৬% এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ০.৭% ধার্য্য করা হয়।

    স্পষ্টতঃ এর ফলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও দেশের কোষাগার বিশাল অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হবে।

    মঙ্গলবারের বাজেট প্রস্তাব বিরোধী দল শূন্য পার্লামেন্টে অতি সহজেই কন্ঠ-ভৌটের মধ্য দিয়ে পাস হয়ে যায়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন