• বাংলাদেশে 'এমার্জেন্সী-এক্সিট-বিহীন' গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডঃ ১২১ কর্মী জীবন্ত দগ্ধ
    bangladesh_garment_factory_fire_kills_121.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৫ নভেম্বর ২০১২, রোববারঃ গতকাল শনিবার বাংলাদেশের একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে এ-পর্যন্ত অন্ততঃ ১২১ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি তবে, আগুন লাগার পর কর্তৃপক্ষ কর্মীদেরকে ফ্যাক্টরি-ভবন ত্যাগ করতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এখনও অনেক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।

    ফায়ার ব্রিগেইডের মেজর মোহাম্মদ মাহবুব জানান, ঢাকার অদূরে সাভারের নিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত তাজরীন ফ্যাশনের ৮তলা কারখানায় কোন 'এমার্জেন্সী এক্সিট' বা 'জরুরী নির্গমণ পথ' ছিলো না।  ভবনটির নিচতলায় আগুন লাগে গতকাল সন্ধ্যে সাড়ে ৭টার দিকে। ফায়ার এ্যালার্ম বেজে উঠলেও কর্তৃপক্ষ, 'এ্যালার্ম নষ্ট, উল্টো-পাল্টা কাজ করছে' উল্লেখ করে কর্মীদেরকে ভবন ত্যাগ করতে দেয়নি।

    বাংলাদেশে গার্মেন্ট কারখানায় প্রায়শই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বেশিরভাগ সময়েই দেখা গিয়েছে যে, প্রবেশ-নির্গমণ পথ তালাবদ্ধ থাকার কারণে কর্মীরা আটকা পড়ে অসহায়ভাবে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তুবা গ্রুপের মালিকানাধীন তাজরীন ফ্যাশনের কারখানায়ও প্রায় অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে গতকাল।

    আটকে পড়া কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে ছাদে আশ্রয় নিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে প্রায় ১,৫০০ কর্মীর এ-কারখানার সকলের স্থান সঙ্কুলান হয়নি। বাকিরা উপরের দিকের তলাগুলোতে আশ্রয় নেন। প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেকে জানালা ভেঙ্গে লাফিয়ে পড়েন নীচে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাদের সকলেরও - তাদের মধ্যে ১২ জন কর্মী মারা গিয়েছেন।

    চিকিৎসকরা মনে করছেন, যারা ভবনের অভ্যন্তরে ছিলেন ধোঁয়ায় প্রথমে তাদের ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে থাকবে, পরে তারা জীবন্ত আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে গতকাল ৯ জনের প্রাণ-হানির খবর পাওয়া গেলেও, আজ উদ্ধার-কর্মীরা সারি-সারি পোড়া লাশ গুণে আরও ১১২ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী।

    বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদ-সংস্থা বিডিনিউজ২৪ডটকমের প্রতিনিধি  ভবনের 'কোন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহৃত না হওয়ার' প্রমাণ পেয়েছেন।

    তাজরীন ফ্যাশন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বৃহৎ দোকানগুলোর জন্য জামা তৈরি করতো - এগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়ালমার্ট, ক্যারেফৌর, টেস্‌কো, সেইন্সবারী, গ্যাপ, মার্ক্স এ্যাণ্ড স্পেন্সার, এইচ এণ্ড এম ইত্যাদি। বাংলাদেশের রপ্তানী আয়ের প্রায় ৮০% অর্জিত হয় সস্তা-শ্রমে উৎপাদিত গার্মেন্ট-পণ্য থেকে, যা বছরে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যথারীতি এ-দুর্ঘটনা তদন্ত করতে সাত-সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটী গঠিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন