• বাংলাদেশে কারখানায় বয়লার বিষ্ফোরণঃ ২৫ জন জীবন্ত দগ্ধ
    tongi_factory_fire.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - লণ্ডন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, শনিবারঃ বাংলাদেশের টঙ্গীতে আজ একটি কারখানায় বয়লার বিষ্ফোরিত হয়ে সৃষ্টি হওয়া অগ্নিকাণ্ডে অন্ততঃ পঁচিশ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় সত্তর জন, যাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয় সময় ভোর ছ'টায় টাম্পাকো ফয়েল নামের কারখানাটিতে এ-দুর্ঘটনা ঘটে। রাজধানী ঢাকার উত্তর উপকণ্ঠে টঙ্গী শিল্প এলাকায় এ-কারখানাটি অবস্থিত। দেশী-বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য এখানে বিভিন্ন ধরণের ফয়েল পেপার তৈরি হয়।

    বয়লারের বিষ্ফোরণটির ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে টাম্পাকোর একজন কর্মী রিয়াদ আহম্মেদ বলেন, "বিষ্ফোরণের সাথে সমগ্র এলাকা কেঁপে উঠেছিলো"। আশেপাশের অনেক বাড়ীর জানালার কাঁচও ভেঙ্গে গিয়েছে বিষ্ফোরণের ফলে সৃষ্টি হওয়া শকওয়েভের আঘাতে।

    টাম্পাকোর ইলেক্ট্রিশিয়ান মোহাম্মদ রোকন - যিনি আহত হয়ে এখন হাসপালে চিকিৎসা নিচ্ছেন - ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, "আমি অফিসরুমে কাজ করছিলাম যখন বিষ্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই ও কম্পন অনুভব করি। তারপরই হঠাৎ করে আমার উপর ছাদ ধ্বসে পড়তে শুরু করে"।

    ভোর ছ'টায় শুরু হওয়া অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের সময় লেগেছে প্রায় আট ঘণ্টা। কেনো এ-আগুন এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো আর কেনোই বা তা নেভাতে এতো সময় লাগলো তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শিল্প পুলিসের একজন মুখপাত্র তাহমিদুল ইসলাম মনে করেন কারখানার নীচতলায় সম্ভবত দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ রক্ষিত ছিলো।

    ফায়ার সার্ভিস বিভাগের একজন কর্তা লেফ্‌টেন্যাণ্ট কর্ণেল (অবঃ) মুশারফ হোসেন বিকেল পাঁচটায় ডেইলি ষ্টারকে বলেছেন, "ভবনের ভেতর থেকে এখনও আমরা কাউকে জীবিত উদ্ধার করতে পারিনি"। তিনি আরও জানান যে, কারখানা ভবনটি প্রায় চল্লিশ বছরের পুরনো, তাই দমকল কর্মীদের পক্ষে সেখানে প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

    বাংলাদেশে শিল্প-কারখানাগুলোতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। নিয়মিত অগ্নিকাণ্ড অনুশীলন, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করা ও প্রয়োজনে বদলানো, পর্যাপ্ত সংখ্যক জরুরী নির্গমন পথ নিশ্চিত করা ইত্যাদি মৌলিক নিরাপত্তা বিধিও মালিকপক্ষ প্রায়শই ভঙ্গ করে বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

    ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশন্‌স     নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১২১ জন শ্রমিক জীবন্ত দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে অন্য একটি পোশাক কারখানায় আগুন লেগে ১০ জন মারা গিয়েছিলো। সে-বছরই রানা প্লাজা নামের একটি পোশাক কারখানা ভবন ধ্বসে ১১৩৪ জন কর্মী নিহত হয়েছিলেন, যা সাম্প্রতিক বিশ্বে সবচেয়ে বড়ো শিল্প-দূর্ঘটনা হিসেবে কুখ্যাত হয়ে রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন