• বাংলাদেশে 'দশ ট্রাক অস্ত্র' মামলার রায়ঃ বাবর-নিজামী-পরেশের মৃত্যুদণ্ড
    bangladesh_10_trucks_arms_case_verdict.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩০ জানিয়ারি ২০১৪, বৃহস্পতিবারঃ  বাংলাদেশে বহুল আলোচিত দশ ট্রাক সমরাস্ত্র চোরাচালানের মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুতফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিল্পমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী ও আসামের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন উলফার সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়া-সহ মোট ১৪ জনকে আজ মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে বিশেষ একটি আদালত।

    ২০০৪ সালের ২রা এপ্রিল ভোরে রাষ্ট্রীয় সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের কর্ণফুলী নদীস্থ সংরক্ষিত ঘাটে মাছ ধরার ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খালাসের সময় পুলিস তা আটক করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র-শস্ত্রের মধ্যে ছিলো কয়েক হাজার রাইফেল ও লক্ষ-লক্ষ গোলাবারুদ ও গ্রেনেড।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে অস্ত্র চোরাচালানের সবচেয়ে বড়ো এ-ঘটনায় দায়েরকৃত অন্য একটি মামলায় একই আসামীদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের একই আদালত 'বিশেষ মেট্রোপলিটান ট্রাইব্যুনাল-১'। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে উলফা নেতা পরেশ বড়ূয়া ও বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব নূরুল আমিন বিচারকালে পলাতক ছিলেন।

    প্রাণদণ্ড-প্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইণ্টেলিজেন্স - সংক্ষেপে এনএসআই-এর প্রাক্তন দু'জন ডাইরেক্টর জেনারেলও রয়েছে। এঁরা হচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুর রহিম ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। এছাড়াও আরও কয়েকজন প্রাক্তন সেনা-অফিসার রয়েছেন যাঁরা এনএসআই-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন।

    বাংলাদেশের নবনিযুক্ত আইন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম এ-রায় সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, "এ-রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে" ।

    এ-চোরাচালান ঘটনা উন্মোচন ও অস্ত্র আটকের জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের সাধুবাদ পাওয়া উচিত কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে বলেন, "আমরা খুব ভালো ভাবেই জানি কীভাবে এগুলো ধরা পড়েছিলো।"

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন