• বাংলাদেশে নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতায় ১৫ প্রাণহানিঃ ঢাকার মার্কিন দূত 'বিনা-নিমন্ত্রণে' দিল্লিতে
    bangladesh_pre_election_violence.jpeg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ অক্টোবর ২০১৩, সোমবারঃ  বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে কি-না সে প্রশ্নকে ঘিরে যে-রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে তাকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় গত ৪ দিনে অন্ততঃ ১৫ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এ-পরিস্থিতিতে দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা প্রতিবেশী ভারতের রাজধানী দিল্লীতে গিয়েছেন সে-দেশের সাথে আলোচনা করতে, যাকে ভারতীয়রা 'অ-নিমন্ত্রিত' ভ্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই তারা নির্বাচনে যাবে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চায় তাদের নিয়ন্ত্রণেই নির্বাচন হোক। আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব দিয়েছেন বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হোক, আর বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া প্রস্তাব করেছেন প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে হোক সে-সরকার।

    এ-নিয়ে মতানৈক্য এখন রাজপথে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। গতকাল থেকে বিরোধী দলগুলোর ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল চলছে। বার্তা-সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় এ-পর্যন্ত কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছে।

    শনিবার খালেদা জিয়াকে টেলিফৌন করে আলোচনার জন্য তাঁর সাথে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান হাসিনা। তবে খালেদা বলেন, তাঁর ১৮ দলীয় জোটের অনেক নেতা পুলিসের গ্রেফতার-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তাই তাঁদের সাথে হরতাল প্রত্যাহার করার জন্য আলোচনার মতো যথেষ্ট সময় নেই। ফলে হরতাল হচ্ছেই; বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল বলেছেন ২৯ তারিখে আলোচনা হতে পারে।

    এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা ভারতে গিয়ে শুক্রবার সেদেশের সরকারের সাথে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। একজন সরকারী কর্মকর্তার বরাতে ভারতীয় পত্রিকা ইকনোমিক টাইম্‌স জানিয়েছে, মজিনাকে ভারত আনুষ্ঠানিকভবে আমন্ত্রণ জানায়নি; তিনি গিয়েছেন নিজ-সরকারের সিদ্ধান্তে।

    বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মেয়াদ গত ২৪ অক্টোবর (মতান্তরে ২৭ অক্টোবর) শেষ হয়ে যাওয়ায়, সংবিধান মতে ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী শাসক নির্ধারণী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ১৯৯৩-৯৬ সময়ে বিরোধী আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা প্রচলন করে।

    ২০০৭ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে একটি টেকনোক্র্যাট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে নির্ধারিত ৯০ দিনের বদলে প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকে, এবং অবশেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় আরোহন করে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন