• বাংলাদেশে ভারতের ট্র্যানজিটঃ আখাউড়া-ত্রিপুরা রেইল সংযোগের চুক্তি
    kolkata_agartala_transit.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২০ এপ্রিল ২০১৩, শনিবারঃ  বাংলাদেশের আখাউড়া ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার মধ্যে রেইল-সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে গত ১৬ এপ্রিল ঢাকায়। এ-চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পশ্চিম বাংলা থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে যোগাযোগের দুরত্ব প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার কমে যাবে। প্রকল্পটির অর্থায়নে ভারত সরকার বাংলাদেশকে ৬০.৩ মিলিয়ন ডলার 'সহায়তা' দেবে। সংবাদ জানিয়েছে খবরসাউথএশিয়া.কম।

    ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে দেশটির অন্যান্য অংশ থেকে ভৌগলিকভাবে আলাদা করেছে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশকে এড়িয়ে পশ্চিম বাংলার কোলকাতা থেকে আসাম বা ত্রিপুরায় যেতে হলে শিলিগুড়ির  মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অন্ততঃ ১৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। যদিও বর্তমানে কোলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি রেইল-যোগাযোগ চালু রয়েছে, তবে তা ভারতের অন্যান্য অংশের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ঘটায় না।

    বাংলাদেশের অর্থ-মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদ ও ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ সরেন স্ব-স্ব দেশের পক্ষে চুক্তিটিতে সই করেন। বাংলাদেশের রেইলওয়ের এডিশন্যাল ডাইরেক্টর জেনারেল বলেন, 'এ-প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী নির্বাচিত করার জন্য একটি যৌথ কমিটী গঠনের কাজ চলছে'। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই বছরের মধ্যেই ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশে সরাসরি রেইল যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

    এ-যোগাযোগ স্থাপিত হলে 'ভারত ব্যাপকভাবে লাভবান হবে' বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতায় বাংলাদেশের সাবেক ডেপুটি হাই কমিশনার হুমায়ুন কবির। তিনি আরও বলেন যে, কলকাতা বা মুম্বাই থেকে আনা পণ্য চট্টগ্রামে নামিয়ে আগরতলায় নিয়ে যাওয়ার ব্যয় কমে আসবে। এর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সপ্তকন্যা নামে পরিচিত ৭ রাজ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।

    উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভক্ত হওয়ার আগেও আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে রেইল যোগাযোগ ছিলো, যা ত্রিপুরা ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতো।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন