• বাংলাদেশে মানবতা-বিরোধী অপরাধে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর
    bd_quader_molla.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১২ ডিসেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মনবতা-বিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার শাস্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে আজ। ২০১০ সালে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দেয়া রায়গুলোর মধ্যে এটিই প্রথম কার্যকর করা হলো।

    মে মাসের ৫ তারিখে মোল্লার অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাবাসের দণ্ড দেয়া হয়। এর প্রতিবাদের ব্লগারদের একটি সংগঠন ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দেয় - তাদের দাবী ছিলো কারাদণ্ড নয়, প্রাণদণ্ড দিতে হবে মোল্লাকে। সে-বিক্ষোভ-সভা কয়েকদিনের মধ্যে লক্ষ-লোকের সমাবেশে রূপান্তরিত হলে বাংলাদেশের সংসদে সংশ্লিষ্ট আইনের পরিমার্জন করা হয়, যাতে মামলার সরকার-পক্ষের জন্য শাস্তি বাড়ানোর জন্য আবেদন করার সুযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ১৭ই সেপ্টেম্বর দেশটির সর্বোচ্চ আদালত মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রাণদণ্ড দেয়ার আদেশ দেয়।

    কাদের মোল্লা বাংলাদেশের ইসলামবাদী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেট্যারি জেনারেল। দলটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হানাদার গণহত্যাকারী পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর পক্ষে সাথে সশস্ত্র মিলিশিয়া গঠন করে সহযোগিতা করে এবং দলগতভাবে হত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষণ ও নির্যাতনে অংশ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আজ বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তার পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো তার সাথে সাক্ষাত করেন কারাগারের অভ্যন্তরে। এর আগে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলো গতকাল বুধবার মোল্লার ফাঁসি কার্যকর সিদ্ধান্তের কথা। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁর আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তা স্থগিত করাতে সক্ষম হন। আজ সকালে মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন আদালতে বাতিল হয়ে যায়।

    প্রাণ রক্ষা করতে মোল্লার একমাত্র পথ ছিলো রাষ্ট্রের প্রেসিডেণ্টের ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাঁর আইনজীবী ও পরিবার দাবী করেছে প্রেসিডেণ্টের ক্ষমার জন্য আবেদন করতে চেয়েছিলেন তিনি। আজ তাঁর পুত্র হাসান জামিল স্থানীয় অনলাইন সংবাদ-মাধ্যম বিডিনিউজ২৪.কমকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেণ্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর আইনজীবী-দল এ-ব্যাপারে আলোচনার জন্য আর রাতে বা আগামী কাল সকালে তার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একটি চিঠিও পাঠিয়েছিলো বলে জানিয়েছে ওয়েবসাইটটি। তবে সে-আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছিলেন, প্রেসিডেণ্টের ক্ষমার ব্যাপারে কারাকর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে মোল্লা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন