সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারঃ জামায়াত ইসলামীর আদর্শিক গুরু গোলাম আযম বন্দী

ইউকেবেঙ্গলি - ১১ জানুয়ারী ২০১২, বুধবারঃ বাংলাদেশের প্রধান ইসলামবাদী দল জামায়াতে ইসলামী’র আদর্শিক গুরু ও প্রাক্তন দলনেতা গোলাম আযমকে দেশটির স্বাধীনতা যুদ্ধকালে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীকে সহযোগিতার মাধ্যমএ মানবতা-বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে আজ বন্দী করা হয়েছে, তবে ‘অসুস্থতা’র কারণে সরকারী হাসপাতালে বন্দীত্বের রাখা হয়েছে তাঁকে।
দেশে-বিদেশে নানা সময়ে সপ্রমাণ অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধে গণহত্যা, লুট, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ-সহ বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধ করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং সে-সবের আদর্শিক সমর্থন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্যারামিলিটারী বাহিনী তৈরী করে হানাদারদের সহযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং মানবতা-বিরোধী অপরাধের মূলে ছিলেন গোলাম আযম।
বাংলাদেশে অধুনা গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত সরকারী অভিযোগ আমলে এনে সম্প্রতি তাঁকে আত্ম-সমর্পণের নির্দেশ দিলে, তিনি আজ তাঁর আইনজীবী-সহ উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। ৮৯ বছর বয়সী আযম তাঁর বার্ধ্যক্য জনিত রোগ-সহ উচ্চ-রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কথা উল্লেখ করে জামিন চান। কিন্তু ট্রাইবুন্যাল সে-আবেদন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠাবার নির্দেশে দেয়।
বাংলাদেশের সংবাদ-মধ্যমগুলো জানাচ্ছে, বন্দী গোলাম আযমের অসুস্ততার কথা বিবেচনা করে কারাগারে থেকে তাঁকে সরাকারী হাসপাতাল বঙ্গবন্ধুতে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, প্রাথমি পরীক্ষার পর তিনি হাসপাতালেই অবস্থান করছেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারী তাঁকে পুনরায় ট্রাইবুনালের সামনে হাজির করা হবে।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ও জনপ্রিয় বিষয় ছিলো ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ২০১০ সালে এ-লক্ষ্যে ট্রাইবুন্যাল গঠিত হলেও জামায়াত ইসলামীর আদর্শিক গুরু গোলাম আযমকে বিচারাধীন করা পর্যন্ত আসতে শেখ হাসিনার সরকারকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। জামায়াত ইসলামী তার আন্তর্জাতিক সংযোগ ও প্রভাব ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমুখীনতা থেকে ‘মুক্ত’ করে ‘নিরপেক্ষ’ করার চেষ্টা চালায়।
রাজনীতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন, বাংলাদেশে ইসলামবাদী রাজনীতিতে সবচেয়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, যার উপর গোলাম অযামের আদর্শিক প্রভাব অপরিসীম। গোলাম আযমের বন্দীত্ব এবং সম্ভাব্য দোষী সাব্যস্ত ও দণ্ডিত হওয়া তাঁর নিজের ও দলের ভাবমূর্তিকে আঘাত করবে এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জন্য এটি স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার মতোই একটি কৃতিত্ব দাবী করার বিষয় হবে।
যে আদর্শের কারনে এতো মানুষ প্রান হারালো সে আদর্শের রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কারো কোন বক্তব্য চোখে পড়লো না।
...
সে-'আদর্শ' নিষিদ্ধ করার কোনো খবর ছিলো না বলে এ-বিষয়ে কিছু লেখা নেই আমাদের রিপৌর্টে। নিষিদ্ধ করার দাবী নিয়ে গতকাল কেউ কোনো 'খবর' তৈরী করেছে বলে আমাদের জানা নেই। জানা থাকলে নিশ্চয় কাভার করতাম। আর, সাংবাদিক হিসেবে সংবাদের বাইরে আমাদের 'বক্তব্য' দেবার তেমন কোনো সুযোগ নেই, এবং দেয়া ঠিকও নয়। তবে, সম্পাদকীয়তে 'বক্তব্য' থাকে। এ-সপ্তাহান্তে সম্পাদকীয় লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
- সম্পাদক