• বাংলাদেশে সরকারী জোটের একতরফা নির্বাচনঃ সহিংসতায় ২০ জন নিহত
    bangladesh_election_2014.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৫ জানুয়ারি ২০১৪, রোববারঃ বাংলাদেশে বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভৌটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে আজ। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত সংসদের বিরোধী-জোট ও আরও অনেকগুলো দল এ-নির্বাচন বর্জন এবং এ-দিন হরতালের কর্মসূচি পালন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে আজ সহিংসতায় অন্ততঃ ২০ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিরোধী দলগুলোর কর্মী।

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী
    বাংলাদেশের ৩০০ আসনের সংসদে ১৫৩টি আসনের প্রার্থীদের সাথে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হননি।বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁদের বিজয়ী নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো নির্বাচনের আগেই,  তাই এ-আসনগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি আজ। এর মধ্যে ১২৭ জনই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বাকী ১৪৭টি আসনে আজ নাগরিকদের ভৌট গ্রহণ করা হয়েছে। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সে-আসনগুলোর মধ্যেও বেশিরভাগেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ফলে অনুমান করা যায়, আওয়ামী লীগ পুনরায় সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রবেশ করবে।

    সম্ভ্যাব্য বিরোধী দল জাতীয় পার্টি
    আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের বিপরীতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে খণ্ডিত জাতীয় পার্টির দু'টি অংশের প্রার্থীরা। এরশাদের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় পার্টি মনোয়নন-পত্র জমা দেওয়ার পরও নির্বাচনে অংশ নিবে না এমন ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁকে নিরাপত্তারক্ষীরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁর ভাই জি এম কাদের নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বললেও স্ত্রী রওশন এরশাদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। 'জাতীয় পার্টির ঘাঁটি' বলে পরিচিত রংপুরে এরশাদের জাতীয় পার্টি প্রাধান্য বজায় রাখতে পারলে সম্ভবতঃ এ-দলটিই হতে যাচ্ছে আগামী সংসদের প্রধান বিরোধী দল।

    পর্যবেক্ষক সঙ্কট
    বিগত নির্বাচনগুলোর বৈধতা নির্ধারনে যে-সব বৈদেশিক রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতি ও মতামত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছিলো তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ
    এবার পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। বিদেশীদের মধ্যে শুধুমাত্র ভারত ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভুটান থেকে এসেছিলেন কয়েকজন পর্যবেক্ষক। স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষন প্রতিষ্ঠানগুলোও সীমিত মাত্রায় এ-নির্বাচন পর্যবেক্ষন করেছে।

    নতুন সরকারকে কূটনৈতিক সহায়তা দেবে ভারত
    ক্ষমতাধর ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ পাঠাতে অস্বীকার করায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসা নতুন সরকারকে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে বেগ পেতে হবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভারতের ইংরেজী সংবাপত্র ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, "শেখ হাসিনার [নতুন] সরকারকে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে রক্ষার্থে ভারত বড়ো ধরণের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে যাচ্ছে"। প্রাক্তন কয়েকজন ভারতীয় কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে ভারত এখন স্থির করে ফেলেছে, তাদের সমর্থন থাকবে শেখ হাসিনার দিকেই।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন