• বাংলাদেশে স্ব-অর্থায়নে পদ্মাসেতুঃ দান গ্রহণের জন্য ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট খোলার ঘোষণা
    bd_padma_bridge_illustration.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৬ জুলাই ২০১২, সোমবারঃ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দান গ্রহণের সুবিধার্থে ব্যাঙ্ক-হিসাব খোলার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি দেশটির কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে এ-সেতু নির্মাণে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুত ঋণ প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্বব্যাঙ্ক। সরকার দুর্নীতির দাবি প্রত্যাখ্যান করে এ-সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার আহবান জানিয়েছে একই সাথে নিজস্ব অর্থায়ণেই এ-প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা বলছে।

    আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী-পর্ষদের এক বৈঠকে ব্যাঙ্কে হিসাব খোলার এ-সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে মন্ত্রী-পর্ষদের সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা জানিয়েছেন যে, একটি হিসাব ব্যবহার করা হবে স্থানীয় মূদ্রায় দান গ্রহণের জন্য এবং অন্যটি নির্ধারিত থাকবে বৈদেশিক মূদ্রায় যারা দান করবেন তাদের জন্য। তবে কীভাবে এ-হিসাব দু'টো পরিচালিত হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ভূঁইঞা জানান, এ-জন্য অর্থ-বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    ভূঁইঞা আরও জানান, মন্ত্রীরা তাঁদের ১ দিনের বেতনের সমপরিমান অর্থ এ-প্রকলের জন্য দান করার সিদ্ধান নিয়েছেন। এছাড়াও জানা গিয়েছে যে, ঢাকাস্থ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ-সেতু প্রকল্পে ১ কোটি টাকা দেয়ার অঙ্গিকার করেছে। উল্লেখ্যঃ অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে নিজস্ব আয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্প্রতি অতিরিক্ত ফী দাবী করে। এর প্রতিবাদে সেখানকার শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গত ৪ঠা জুলাই পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে নিজস্ব অর্থায়াণে এ-সেতুটি নির্মাণের কথা জানান। তাঁর পরিকল্পনা-মতে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সার্বভৌম বণ্ডও ছাড়া হবে। তবে 'বিবিমাইনাস' ক্রেডিট রেইটিং নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার্বভৌম বণ্ডের মাধ্যমে ঋণ নেয়া বাংলাদেশের জন্য খুবই ব্যয়বহুল হবে বলে ধারণা করা হয়।

    দেশটির পার্লামেন্টের বিরোধী-দল বিএনপি এ-প্রচেষ্টাকে সরকারী দলের 'পরবর্তী নির্বাচনের তহবিল গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, 'তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে সেতু নির্মাণের নামে টাকা সংগ্রহের নতুন ধান্ধা শুরু করেছে'।

    পদ্মা সেতু প্রকল্পে নিয়ে বিশ্বব্যাঙ্ক উচ্চ-পর্যায়ের দুর্নীতির প্রমান পেয়েছে বলে দাবি করে। তারা জানায় যে, বাংলাদেশের সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কানাডার নির্মাণ সংস্থা এসএনসি-লাভালিন ও কয়েকজন বেসরকারী ব্যাক্তি এ-দুর্নীতির সাথে জড়িত। এ-মর্মে বাংলাদেশের সরকার ও কানাডার সরকারকে ২০১১ সালে অবহিত করে বিশ্বব্যাঙ্ক। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সেতু-প্রকল্পের সাথে সম্পর্ক না দেখিয়ে এবং কোন তদন্ত-প্রতিবেদন প্রকাশ না করে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে অপসারন করে। ওদিকে, কানাডার কর্তৃপক্ষ এক বছর তদন্ত-শেষে এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পায়। কৌম্পানীটি ইতোমধ্যেই এর পরিপ্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে দুর্নীতির দায়ে অপসারন করেছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন