• বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলামের ঢাকামুখী লংমার্চঃ ঠেকাতে ছুটির দিন-রাতে হরতাল
    bd_hefazot_e_islam.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৫ এপ্রিল ২০১৩, শুক্রবারঃ  বাংলাদেশের শাহবাগে চলমান 'গণজাগরণ' আন্দোলনের সাথে জড়িত কথিত 'নাস্তিক' ব্লগারদের ফাঁসির দাবিতে আগামীকাল লংমার্চ করে ঢাকায় আসবে চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসা-ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। জবাবে, আজ বিকেল ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার হরতাল ও যোগাযোগ-ব্যবস্থা অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট-সহ ২৭টি সংগঠন। লংমার্চ 'শান্তিপূর্ণ' হবে কিন্তু বাধা দেয়া হলে লাগাতার হরতালের হুমকি দিয়েছে এর আয়োজকরা।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ফেব্রুয়ারীর ৫ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাভোগের সাজা দেয়। কিন্তু এতে অতৃপ্ত ও বিক্ষুব্দধ হয়ে ব্লগারদের একটি সংগঠন প্রতিবাদের ডাক দেয়, যা অতি দ্রুত লক্ষ-লক্ষ লোকের 'গণজাগরণে' রূপ নেয়।

    কিন্তু ঐ মাসেরই ১৫ তারিখে শাহবাগের আন্দোলক ব্লগার রাজীব হায়দারকে গলা কেটে হত্যা করা হলে স্থানীয় দৈনিক আমারদেশ তাঁকে নাস্তিক বলে চিহ্নিত করে। এরপর থেকেই ইসলামবাদীরা ব্লগারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে শাহবাগের আন্দোলকদের পূর্ব-নির্ধারিত চট্টগ্রাম সমাবেশ রুখে দিয়ে হেফাজতে ইসলাম আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

    হেফাজতে ইসলামকে জামায়াতে ইসলামীর রক্ষাকারী বলে আখ্যায়িত করে হরতাল আয়োজকরা লংমার্চ প্রতিরোধের সংকল্প ঘোষণা করেছেন। তাঁরা বলছেন, হরতাল দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় তাঁদের হাতে ছিলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের ক্রীড়াকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটীর শাহরিয়ার কবির বলেন, 'অনন্যোপায় হয়ে আমরা হরতাল ডেকেছি। জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে হরতাল ডেকেছি'।

    'লংমার্চ ঠেকানো' কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-সংযোগী রেইল-সড়ক-নৌপথ অবরোধ করা হবে বলে জানিয়েছে এর আয়োজকরা। এ-আয়োজনকে কেন্দ্র করে পূনরুজ্জীবিত হয়েছে সম্প্রতি ঝিমিয়ে-পড়া শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন। ঢাকায় প্রবেশের চারটি পথেই অবস্থান নিয়েছে মঞ্চের সমর্থক-কর্মীরা। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আমরণ অনশন করা শহীদ রুমী স্কোয়াড জানিয়েছে, এর সদস্যরা ঢাকার সদরঘাটে অবস্থান করবে শনিবার।

    এদিকে সহিংসতার আশঙ্কার কথা জানিয়ে য়াজ সকাল থেকেই রাজধানীর সঙ্গে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। হেফাজত একে 'সরকারের ষড়যন্ত্র' বলে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলো জানায়, লংমার্চ সামনে রেখে '৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার বাস' ভাড়ার পরিকল্পনা করেছিলো হেফাজত।

    লংমার্চকে সমর্থন করেছে বাংলাদেশের সংসদে বিরোধী-দলীয় জোটের বিএনপি ও সরকারী জোটের জাতীয় পার্টি। অপর পক্ষে হরতাল-অবরোধ সর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মতো বাম রাজনৈতিক দল-সহ অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে বিএনপির 'ঢাকা চলো' কর্মসূচিকে একইভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন