• বাংলাদেশ-ভারত রেইল-সংযোগ প্রকল্পের ফলো-আপঃ ঢাকায় দু-পক্ষের বৈঠক, যমুনায় আলাদা রেইল-সেতুর সম্ভবনা
    bd_kolkata_agartala_transit.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৩ মে ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ   বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রাপ্ত ট্র্যানজিট সুবিধা ব্যবহার করে ভারত তার দুর্গম উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাণিজ্য ও যোগাযোগ-ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে চায়। এর অংশ হিসেবে চলমান আখাউড়া-আগরতলা রেইল-সংযোগ প্রকল্পের যৌথ কমিটীর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২১ তারিখের সভা শেষে জানানো হয়েছে, এ-বছরের মধ্যেই চালু হবে এ-প্রকল্পের মূল কাজ। আলাদা খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশের রেইল বিভাগ যমুনা নদীতে একটি ভারী রেইল-সেতুর জন্য অর্থায়ন-সহযোগী খুঁজছে।

    ট্র্যানজিট ও ভারতীয় ঋণ
    ট্র্যানজিট সদ্ব্যবহারে বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো যথেষ্ঠ উপযুক্ত না হওয়া তার উন্নয়নে বিশেষতঃ রেইল-ব্যবস্থা সংস্কারে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে ভারত। স্বল্প সুদে ভারতের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়ে সে-অর্থের সিংহভাগ এ-খাতে ব্যয় করছে বাংলাদেশ। এ-ঋণের অন্যতম শর্ত হচ্ছে, অন্ততঃ ৮৫% অর্থ ভারতীয় পণ্য-প্রযুক্তি-সেবা ক্রয়ে ব্যয় করতে হবে।

    ট্র্যানজিটের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে আখাউড়া-আগরতলা রেইল-সংযোগ স্থাপন ও পশ্চিম সীমান্তে ইতোমধ্যেই চালু থাকা ঢাকা-কলকাতা সংযোগ উন্নয়নের প্রকল্প চলছে। আখাউড়া-আগরতলা সংযোগ চালু হলে ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে যাবার অবকাঠামগত সকল বাধা দূর হবে। ফলে এক-রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে দ্রুত পণ্য, যাত্রী ও সামরিক যোগাযোগের বিপুল সম্ভবনা উন্মুক্ত হবে।

    সম্প্রতি ভারত জানিয়েছে, দূর্নীতির কারণে বহুল আলোচিত বাংলাদেশের প্রস্তাবিত পদ্মা-সেতু প্রকল্পেও এ-ঋণের একটি অংশ ব্যয় করলে তারা আপত্তি করবে না।

    সেভেন-সিস্টার্সের বাণিজ্য ও চট্টগ্রাম বন্দর
    সড়ক যোগাযোগের অসুবিধা ছাড়াও সেভেন-সিস্টার্স নামে পরিচিত স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোর বাণিজ্য-বিকাশে বড়ো একটি বাধা হচ্ছে, সুলভে সমুদ্র-বন্দর ব্যবহার করতে না পারা। সর্ব নিকটের রাষ্ট্রীয় বন্দর পশ্চিম বাংলায় যা ব্যবহার করা ত্রিপুরা বা আসামের মতো রাজ্যগুলোর পক্ষে অর্থনৈতিক কারণে লাভজনক নয়। এ-রাজ্যগুলোর বাজারে তাই বিদেশী পণ্য এমনকি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদিত অনেক পণ্যই সুলভ নয়। ফলে, দৃশ্যতঃ উত্তর-পূর্ব ভারতীয় এ-রাজ্যগুলোতে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশি বাংলাদেশে উৎপাদিত অনেক পন্য বেশ জনপ্রিয়।

    ট্র্যানজিট সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের পক্ষে এ-পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। পশ্চিম বাংলার সাথে সরাসরি আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরামের যোগাযোগ সম্ভব হলে সেখানে অন্য রাজ্যের যেমন গুজরাতে উৎপাদিত পণ্য স্বল্প-ব্যয়ে পাঠানো সম্ভব হবে।

    তবে ভারতের জন্য এর চেয়েও বেশি আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার হচ্ছে, রেইল-সংযোগের মাধ্যমে এ-রাজ্যগুলোর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে পারা। তাতে আমদানী-রফতানী বাণিজ্যের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে ত্রিপুরা থেকে শুরু করে নাগাল্যাণ্ড ও অরুণাচল পর্যন্ত সবগুলো রাজ্যেরই। তাই কৌশলগত কারণে এ-রেইল-সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক।

    যমুনা নদীতে পৃথক ভারী রেইল-সেতু
    বাংলাদেশ রেইলওয়ের ডাইরেক্টর জেনারেল মোঃ আবু তাহের স্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে যমুনা নদীতে পৃথক একটি রেইল-সেতু নির্মাণের প্রকল্পের কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ-মুহূর্তে তাঁর সংস্থাটি এ-প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন-সহযোগী সন্ধান করছে। ২০০৭ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশকে এ-ধরণের একটি একান্ত সেতু নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছিলো। তখনকার বাংলাদেশের সামরিক-প্রভাবিত তত্ত্বতাবধায়ক সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এ-রেইল-সেতুটি তৈরি হলে বাংলাবান্ধা ও দর্শনার সাথে ঢাকা হয়ে আগরতলা ও চট্টগ্রামের রেইল যোগাযোগে ব্যাপক গতি আসবে। এর গুরুত্ব নির্দেশ করতে গিয়ে আবু তাহের বলেন, ট্র্যান্স-এসিয়ান রেইলওয়ে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে এর সুবিধা নিতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই যমুনায় পৃথক ভারী সেতু নির্মান করতে হবে। এ-প্রকল্প বিষয়ে একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, যমুনা নদীতে বহুমুখী বঙ্গবন্ধু সেতুতে বিদ্যমান রেইল-অবকাঠামো ভারী রেইল পরিবহনের জন্য উপযুক্ত নয়। এ-সেতুর উপর দিয়ে ৪৪ কিলো নিউটনের বেশি ওজনের কণ্টেইনার রেইলগাড়ী চলাচলে সেতু বিভাগের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন