• বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দাবিঃ গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হয়েছে
    Brig-Gen-Razzak.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৯ জানুয়ারী ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচালক ব্রিগেইডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক আজ রাজধানী ঢাকায় সেনা সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে জানালেন যে, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কিছু সামরিক অফিসার দেশে ও দেশের বাইরে থেকে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিলো, যা সেনাবাহিনী নাস্যাৎ করতে সফল হয়েছেন।

    জেনারলে রাজ্জাক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান। পঠিত বক্তব্য রাজ্জাক বলেন, অনাবাসী কিছু বাংলাদেশীদের প্ররোচনায় একদল উগ্রপন্থী অবসরপ্রাপ্ত ও চাকুরীরত কর্মকর্তা  অন্যদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে নৈরাজ্য তৈরী করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি উৎখাত করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাদের এই জঘন্য চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে।

    সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের ঘটনাক্রম বর্ণনা দিতে গিয়ে রাজ্জাক বলেন, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর এক সাবেক সেনা-কর্মকর্তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে চাকুরীরত এক মেইজরকে তাঁর সাথে যোগ দিতে বলেন। সুবোধ মেইজরটি এ-কথাটি তখন তাঁর চেইন অফ কম্যাণ্ডে জানান। তাতে, সাবেক কর্মকর্তাটিকে গ্রেফতার করা হয়।

    জেনারেল রাজ্জাক আরও বলেন, সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক নামের আরেক মেইজর ছুটিতে থাকা অবস্থায় গত ২২ ডিসেম্বর একই ভাবে আরেকজন কর্তব্যরত অফিসারকে ‘প্ররোচিত’ করেন। তিনিও সুবোধ ছিলেন এবং যথারীতি তিনিও বিষয়টি রিপৌর্ট করেন। এ-পরিস্থিতিতে মেইজর হকের ছুটি ও বদলি বাতিল করে তাঁকে সদর দপ্তরে যোগ দিতে বলা হয়। কিন্তু যোগ না দিয়ে তিনি ২৩ ডিসেম্বর পালিয়ে যান এবং তখন থেকে এখনও পর্যন্ত ‘নাশকতামূলক’ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সরকারের প্রতি অনুগত না থাকার জন্য অন্যকে প্ররোচিত করার দায়ে অভিযুক্ত ও গ্রেফতারিত আরও এক মেইজরের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জেনারেল জানান, ৩১ ডিসেম্বর সেনা-আইনের ধারায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জেনারেল রাজ্জাক জানান, মেইজর হক এখন বিদেশ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন এবং বলছেন, বাংলাদেশে মধ্য-পর্যায়ের সেনা-কর্মকর্তারা একটা বড়োধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। জেনারলে রাজ্জাক মেইজর হকের অবস্থান সম্পর্কে বলেন, তিনি ‘সম্ভবতঃ’ হংকংয়ে থেকে এ-কাজ করেছেন।

    গ্রেফতারিত সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের দুজনের মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এহসান ইউসুফ ও মেইজর যাকির। কিন্তু কবে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা উল্লেখ করেননি জেনারেল রাজ্জাক।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন