• বার্মায় বন্দী-মুক্তি ও এথনিক-চুক্তি চলছেঃ কোনো অগ্রগতি নেই রোহিঙ্গা বিষয়ে
    Min_Ko_Naing.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৩ জানুয়ারী ২০১২, শুক্রবারঃ  বার্মার চেপে-রাখা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী অঙ সান সূ কীয়ি’র উপর আটকাদেশ প্রত্যাহার করার মাধ্যমে গত বছর যে রাজনৈতিক সংস্কার শুরু করেছে দেশটির বেসামরিকিত সরকার, তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে কারেন বিদ্রোহীদের সাথেএবং আজ মুক্তি দেয়া হয়েছে ছ’শতাধিক রাজনৈতিক বন্দীকে, যদিও রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

    গত ডিসেম্বরে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী হিলারী ক্লিন্টন এবং গত সপ্তাহে ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী উইলিয়াম হেইগের বার্মা সফর বিশ্ব-সমাজে দেশটির একাকীত্ব কাটানোর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এসেছে। বিনিময়ে বার্মার তিনটি শর্ত পালনীয় - বন্দী মুক্তি, লড়াকু এথনিক গ্রুপগুলোর সাথে চুক্তি ও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। গত দু’দিনের ঘটনায় সংস্কারের পথে বার্মার অগ্রগতি হয়েছে।

    ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসীর সাধারণ সম্পাদক অঙ সান সূ কীয়ি জাতিগোষ্ঠীগত সু-সম্পর্কের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘এথনিক সু-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না হলে সুষ্ঠু গণতন্ত্র গড়ে তোলা খুবই কঠিন হবে।’

    বার্মার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগুরু বামার জাতিগোষ্ঠী প্রাধান্যের কেন্দ্রীয় সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কারেন জাতিগোষ্ঠী গত ৬৩ বছর সংগ্রাম করে আসছিলো। ব্রিটিশ সমর্থনপুষ্ট কারেন বিদ্রোহীদের সাথে গতকাল ‘একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে’ বলে সরকারী মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দৈনিক গার্ডিয়ান।

    আজকের বন্দী-মুক্তি ব্যাপক উৎসাহ তৈরী করেছে বার্মাদেশে। ১৯৮৮ সালের ব্যর্থ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা মিন চো নাইং-এর মুক্তিকে স্বাগত জানাতে রেঙ্গুনের সাড়ে পাঁচশো মাইল উত্তরে থায়েত কারাগারের সামনে জড়ো হয়ছিলো বিশাল জনতা। ১৫ বছর কারাবাসের করে ২০০৪ সালে মুক্তি পাবার পর তাঁকে আরও দুবার গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে সর্বশেষ  ২০০৭ সালের অগাস্টে।

    সর্বশেষ মুক্তি-পাওয়ার দলে আছে শান জাতিগোষ্ঠীর নেতা শান ন্যাশনালিটিজ ফর ডেমোক্র্যাসীর চেয়ারম্যান খুন তুন উ, যাঁকে রাষ্ট্র-দ্রোহিতার দায়ে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে গ্রেফতার করে ৯৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিলো।

    রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ব্যাপারে বার্মা সরকারের মনোভাবের কোনো পরিবর্তন এসেছে কি-না, তা জানার জন্য লণ্ডনে-থাকা আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গেনাইজেশনের প্রেসিডেন্ট নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ইউকেবেঙ্গলিকে জানান, যদিও রোহিঙ্গা নেতা উ চৌ মিন ওরফে আনোয়ারুল হককে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে কোনো সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    উল্লেখ্য, এ-যাবৎকাল বার্মার সকল নির্বাচনে ভৌট দেবার অধিকার পেলেও রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে বার্মার নাগরিক হিসেবে স্বীকার করা হয় না। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে তাদের চলাফেরা নিষিদ্ধ। নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বার্মার অনেক এথিক গ্রুপের মধ্যে একটি। আমরা জাতিগোষ্ঠীগত বিভিন্নতা এবং একই সাথে বর্মী ঐক্যে বিশ্বাসী। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদেরকে ভৌট দেবার অধিকার দেয়া হলেও, আমাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে।’

    বার্মার রাজনৈতিক পরিবর্তনে অঙ সান সূ কীয়ি ক্ষমতায় এলে কি তিনি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করবেন কি-না প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করি তিনি তা করবেন’। তিনি বলেন, এখন যেহেতু এথনিক গ্রুপগুলোর সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বার্মার উপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে, বাংলাদেশ-সহ রোহিঙ্গা-বান্ধব দেশসমূহের উচিত ছিলো রোহিঙ্গা বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন