• বিনা বিচারে কারাগারে প্রায় ৮ বছরঃ যুক্তরাষ্ট্রে নয়, যুক্তরাজ্যেই বিচার চান বাবর আহমেদ
    Babar-Ahmed-interviewed.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৫ এপ্রিল ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ  সন্ত্রাসবাদী বলে সন্দেহিত ব্রিটিশ নাগরিক বাবর আহমেদকে প্রায় ৮ বছর ধরে বিনা বিচারে বন্দী রাখা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবার উদ্দেশ্য, যা আইনী জটিলতার কারণে সম্ভব হয়নি; কিন্তু বাবার আহমেদ চাইছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগই আনা হোক না কেনো, বিচারটি যেনো হয় ব্রিটেইনেই।

    ইসলামিক জিহাদে উৎসাহ-দেওয়া ‘আযাম ডট কম’ নামের ওয়েব সাইট ও সন্ত্রাসবাদের সহায়ক একটি ‘সেল’ লণ্ডন থেকে পরিচালনা করার অভিযোগে বাবর আহমেদকে বিচারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'এক্সট্র্যাডিশন' আইনের অধীনে চেয়ে পাঠালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ২০০৪ সালে গ্রেফতার করে অদ্যাবধি বিনা বিচাররে বন্দী করে  রেখেছে।

    ব্রিটেইনের আধুনিক আইনী-ইতিহাসে বেনজির এই বিচার-হীন দীর্ঘ আটকাদেশ যার উপর, বিবিসি সেই বাবর আহমেদের সাক্ষাতকার নিতে চাইলে সরকার তা অনুমোদন করেনি। কিন্তু সরকারী সিদ্ধান্তকে চ্যালেইঞ্জ করে বিবিসি হাই কৌর্টে আবেদন করলে, হাই কৌর্ট সরকারকে অনুমোদন-দানে বাধ্য করে।

    বিবিসির সাথে কারাগারে একান্ত সাক্ষাতকারে বাবর আহমেদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রমাণ যা-ই থাকুক না কেনো, এ-দেশেই তাঁর বিচার হওয়া উচিত।

    বাবর আহমেদ বলেন, তিনি কোনো দেশে, কোনো কালে, কোনোভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন না। তিনি সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী নন বলে জোর দাবি করেন।

    তবে, ‘আযাম ডট কম’ ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করতেন কি-না এই প্রশ্নের উত্তরটি বন্দী বাবর আহমেদ এড়িয়ে যান । তিনি বলে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগের উত্তর তিনি এ-দেশের কৌর্টে দিতে চান।

    মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবর আহমেদ ‘আযাম ডট কম’ ওয়েবসাইটটির মাধ্যে দেশে-দেশে মুজাহিদীন জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহে ভূমিকা রাখেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৯০ এর দশকে বসনিয়াতে মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ-করা বাবর আহমেদকে স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ড প্রথম গ্রেফতার করে ২০০৩ সালে আল-কায়েদার সাথে সম্পর্কিত থাকার অভিযোগে। বাবর আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়।

    মুক্তি-পাওয়া বাবর আহমেদ পুলিসের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬০ হাজার পাউণ্ড লাভ করেন। কিন্তু এর এক বছর পর ২০০৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্তরাজ্যের অপরাধী 'এক্সট্র্যাডিশন' আইনের ভিত্তিতে সে-দেশে পাঠানোর উদ্দেশ্য বাবর আহমেদকে পুনরায় গ্রেফতার করে কোনো বিচার ছাড়াই এ-পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হয়েছে।

    বস্তুতঃ ইউরোপীয় আইনী জটিলতার কারণে বাবর আহমেদকে এ-পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এখন, বাবর আহমেদ-সহ অনুরূপ অভিযুক্তদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো যাবে কি-না, তার উপর ইউরোপীয়ান কৌর্ট রায় দিবে আগামী মঙ্গলবার।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন