• বিমান-প্রধানের হুঁশিয়ারিঃ লিবিয়া-আক্রমণ চলতে থাকলে বিমান-বাহিনী দুর্বল হবে
    Air-Chief-Marshal-Sir-Simon-Bryant.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ২১ জুন ২০১১, মঙ্গলবারঃ  রাজকীয় বিমান বাহিনী আরএএফ-এর প্রধান এ্যায়ার চীফ মার্শাল স্যার সাইমন ব্রায়ান্ট সরাকারকে সতর্ক করে বলেছেন যে, লিবিয়া আক্রমণ সেপ্টেম্বর মাসের পরও অব্যাহত থাকলে তার বাহিনীর পক্ষে জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

    গতমাসে এমপিদের কাছে স্যার সাইমন ব্রায়ান্টের দেয়া ১৩ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদন দৈনিক টেলিগ্রাফের হস্তগত হলে মঙ্গলবার পত্রিকাটি তার সার সংক্ষেপ প্রকাশ করে।

    এ্যায়ার চীফ বলেন, একই সাথে আফগানিস্তান ও লিবিয়াতে অভিযান চালানোর কারণে বিমান বাহিনীর শক্তি দূর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘যুগপৎভাবে দুটি অভিযান যন্ত্র-সম্ভার ও জোয়ানদের উপর প্রভূত চাহিদা আরোপ করছে।’ এ-পরিস্থিতিতে, ‘অপারেশন এলামী (লিবিয়া) যদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার পূর্ব-অনুমিত সীমা অতিক্রম করে, তাহলে বিমান বাহিনীর ভবিষ্যতের জরুরী অবস্থা মোকাবিলা করার ক্ষমতা লোপ পেতে পারে’।

    এ-ছাড়াও প্রতিরক্ষা খাতে সরকার যে ব্যয় হ্রাস এবং বেতন হিমায়িত করে রেখেছে, তাতে বিমান সেনারা নিজেদেরকে ‘মূল্যবান’ মনে করছেন না বলে তিনি উল্লখ করেন। বিভিন্ন দক্ষ পদে নতুন নিয়োগের জন্য আগ্রহীদের সংখ্যায়ও ভাটা পড়েছে বলেও তিনি জানান।

    বিমান-সেনাদের মনোবল সম্পর্কে এ্যায়ার চীফ মার্শাল বলেন, ‘মনোবল নাজুক হয়ে রয়েছ। যুদ্ধের চেতনা যদিও ইতিবাচক, তবে অপারেশন এলামী [সেপ্টেম্বেরের পর] অব্যাহত থাকলে তা সেনাদের ব্যক্তিগত দেহ-মনের সমন্বয় মাত্রা অর্জনে চ্যালেইঞ্জের মুখে পড়বে।’

    বিমান বাহিনীতে বিভিন্ন ভাতা কর্তন ও বেতন হিমায়িত করার কারণে আর্থিক প্রাপ্তির বিষয়ে কর্ম-সন্তোষের ক্রমঃপতন হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করেন এ্যায়ার চীফ মার্শাল স্যার সাইমন ব্রায়ান্ট।

    উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রাজকীয় নৌবাহিনীর প্রধান এ্যাডমিরাল স্যার মার্ক স্ট্যানহৌপও জানান, লিবিয়ায় আক্রমণ সেপ্টেম্বরের পর অব্যাহত থাকলে তার বাহিনীর পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

    লিবিয়াতে বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য এবং  আকাশ-পথে  গত মার্চ থেকে আক্রমণ চালানো সত্ত্বেও দেশটির জন-রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে পরাস্ত করতে-না-পারা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন নৌ-প্রধানের বক্তব্যে বিরক্ত হন এবং তাকে গত মঙ্গলবার ডেকে নিয়ে ভর্তসনা করেন।

    গত কয়েক দিন ধরে লিবিয়াতে ন্যাটোর হামলায় শিশু-সহ বহু বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং এর বিরুদ্ধে বিশ্বের দেশে-দেশে শুরু হওয়া প্রতিবাদ দৃশ্যতঃ আক্রমণের হোতা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন ও ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির জন্য বিশাল চ্যালেইঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

    নৌ-প্রাধান ও বিমান-প্রধানের নেতিবাচক মন্তব্য এ-মুহূর্তে আন্দোলন-মুখী ব্রিটিশ জন-মানসে অভিঘাত সৃষ্টি করে ডেইভিড ক্যামেরোন সরকারে বিরুদ্ধে আসন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ সংবর্ধক হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা যায়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন