• বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাজ্য ৭মঃ ব্রাজিল এগিয়ে গেছে অর্থনীতির মূল্য-মানে
    brazil-vs-england-friendly.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ মার্চ ২০১২, মঙ্গলবারঃ  বিশ্ব অর্থনীতির সর্বশেষ হিসেবে মতে দক্ষিণ আমেরিকার উচ্চ-প্রবৃদ্ধির অর্জন করা দেশ ব্রাজিল যুক্তরাজ্যকে পেছনে ঠেলে দিয়ে তার ৬ষ্ঠ স্থান দখল করে নিয়েছে দেশের অর্থনীতির মূল্য-মানে, আর তার পরিণতিতে যুক্তরাজ্য দাঁড়িয়েছে বর্তমানে ৭ম স্থানে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইকনোমিক এ্যাণ্ড সৌশ্যাল রিসার্চ (নিসার)-সহ আরও কয়েকটি অর্থনৈতিক পূর্বাভাষক সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, ব্রাজিল এক্ষণে যুক্তরাজ্যকে অতিক্রম করে ফেলেছে।

    নিসারের  উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ব্রাজিলের অর্থনীতির বর্তমান মূল্য হচ্ছে ২.৫২ মার্কিন ট্রিলিয়ন ডলার। পক্ষান্তরে যুক্তরাজ্যের মোট অর্থনীতির বর্তমান মূল্য হচ্ছে ২.৪৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা আইএমএফের উপাত্ত অনুযায়ী ২০১০ সালে ব্রাজিলের অর্থনীতির মূল্য ছিলো ২.০৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর সে-সময়ে যুক্তরাজ্যের ছিলো ২.২৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    উল্লেখ্য, গত বছর ব্রিটেইনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেখানে ছিলো ০.৮%, ব্রাজিলের সেখানে ছিলো ২.৭%। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে খাদ্য ও তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে ব্রাজিলের অর্থনীতির শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে।

    তবে ব্রাজিলের অর্থমন্ত্রী গুইদি মান্তেগা এই প্রবৃদ্ধিকে খুব বড়ো করে দেখতে চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ষষ্ঠ-বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গতিশীল ও টেকসই অর্থনীতিসমূহের মধ্যে একটি হয়ে থাকা।’

    প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, গত বছর চীনের অর্থনীতি জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতি, যদিও তার প্রবৃদ্ধির হার খুবই কম।

    আইএমএফ ২০১১ সালের তালিকায় গত দেখানো হয়েছিলো ১ম স্থান যুক্তরাষ্ট্রের (১৪.৫৩ ট্রিলিয়ন), ২য় স্থানে চীন (৫.৮৮ ট্রিলিয়ন), ৩য় জাপান (৫.৪৬ ট্রিলিয়ন), ৪র্থ জার্মানী (৩.২৯ ট্রিলিয়ন), ৫ম ফ্রান্স (২.৫৬ ট্রিলিয়ন), ৬ষ্ঠ যুক্তরাজ্য (২.২৫) ও ৭ম ব্রাজিল (২.০৯ ট্রিলিয়ন)।

    গত বছর ব্রাজিলের ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাজ্যকে তার ৬ষ্ঠ অবস্থান হারাতে হলো। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠেয় গণভৌটে রায় পেয়ে যদি স্কটল্যাণ্ড স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে যায়, তখন বিশ্ব অর্থনীতিতে এ-দেশের অবস্থান আরও পিছিয়ে পড়বে, যা ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে একটি বড়ো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন