• বিশ্ব-পরিস্থিতি জটিলঃ রুশদের চুড়ান্ত পরিস্থিতির জন্য সতর্ক করলেন সেনাপ্রধান
    General-Nicholay-Makarov.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১, বুধবারঃ  বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল ও অপ্রত্যাশিত বাঁক নিচ্ছে উল্লেখ করে, রাশিয়ান ফেডারেশনের সেনাবাহানীর প্রধান জেনারেল নিকোলাই মাকারভ বলেছেন, ‘ওয়ার্স্ট পসিবল সিনারিও’ অর্থাৎ সম্ভাব্য চূড়ান্ত খারাপ দৃশ্যকল্পের জন্য রুশ সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত হতে হবে।

    গত সোমবারে মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল মাকারভ বলেন, ‘বিশ্বের পরিস্থিতি জটিল এবং  তা অবিরত পরিবর্তিত হচ্ছে - বিশেষতঃ উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। এ-অঞ্চলগুলোতে ঘটনাগুলো ঘটছে প্রচণ্ড গতিতে, যার পূর্ববেক্ষণ ছিলো কঠিন।’

    তিনি বলেন, ‘সেখানে কী ঘটবে, তা কেউই বলতে পারবে না। কিন্তু, বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের জন্যে এটি একটি সঙ্কেত। আমাদেরকে, অর্থাৎ সেনাবাহিনীকে, চূড়ান্ত দৃশ্যকল্পের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

    জেনারেল মাকারভ জানান, কালেক্টিভ সিকিউরিটী ট্রীটী অর্গেনাইজেশন (সিএসটিও) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় সেনাবাহিনীগুলোকে কার্যকর ব্যবহারের জন্য একটি সম্মিলিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

    উল্লেখ্য, সিএসটিও সামরিক জোটের মধ্যে রয়েছে সাতটি দেশ - রাশিয়া, তাজিকস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, বেলারুস ও আর্মেনিয়াক - যেগুলো একসময় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক জনতন্ত্র-সমূহের ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

    নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের বিপরীতে রাশিয়ার নেতৃত্বে প্রধানতঃ মুসলিম প্রাধ্যন্যের দেশগুলো মিলে সিএসটিও জোট গঠন করে।

    এ-মাসের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যৌথ সামরিক মহড়া সেন্টার-২০১১ সম্পর্কে বলতে গিয়ে রুশ সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের সামরিক শক্তি ব্যবহার জন্য সিএসটিও’র কাঠামোর ভিতর আমরা একটি অভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।’

    সেন্টার-২০০১ মহড়া শুধু সামরিক চরিত্রের হবে না উল্লেখ করে মাকারভ বলেন,  ‘সামরিক দিক ছাড়াও সিএসটিও দেশগুলো রাষ্ট্রীয় সামরিক কাঠামোর সাথে যুক্তি অন্যান্য ক্ষমতা-কাঠামোও এই মহড়াতে অংশগ্রহণ করবে।’

    তিনি বলেন, ‘শিল্প-সহ জটিল সামরিক সঞ্চালন শুরু করার জন্য আমাদের দেশের সামগ্রিক সামরিক সংগঠনের যোগ্যতা যাচাই করতে চাই।

    উল্লেখ্য, ১২,০০০ সেনা, ৭০টি এ্যায়ারক্র্যাফট্‌, ১০০০ যুদ্ধযান এবং ক্যাস্পিয়া সাগর পূর্ণ শক্তির নৌবহর উল্লিখিত মহড়াতে অংশ গ্রহণ করবে।

    ইউকেবেঙ্গলির পর্যবেক্ষণ মতে, গত সোমবারে ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রীর হঠাৎ রাশিয়া সফর,  একই দিনে রুশ সেনাপ্রধান জেনারেল মাকারভের যুদ্ধ-সতর্কতা, তার আগের সোমবারে সাংবাদিক সম্মেলনে ইসরায়লের হৌম-ফ্রন্টের সামরিক প্রধান মেজর জেনারেল ইয়াল আইজেনবার্গের ‘মধ্যপ্রাচ্য পূর্ণমাত্রিক বহু-ফ্রন্টীয় যুদ্ধ সমাসন্ন’ বলে পূর্বোক্তি করা এবং সর্বোপরি ইউরোপে ও আমেরিকায় পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসনের তীব্র প্রয়োজনীয়তা-বোধের পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্ভবতঃ কাল্পনিক কিছু নয়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন